০৭:২৯ পি.এম
ফেসবুক পেজে অর্ডার নেওয়া, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) মূল্য পরিশোধ করা এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেলিভারি দেওয়া হত সিসা। এইভাবে একটি সংঘবদ্ধ সিসা বাণিজ্য চক্র তৈরি হয়েছিল অনলাইন ভিত্তিক।
এ ঘটনায় দুই যমজ ভাইসহ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনই চকরিয়ার বাসিন্দা
গ্রেপ্তার যমজ দুই ভাই হলেন- আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪)। অন্য ব্যক্তি মো. মাকসুদ আলম (৪০) নামক একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযানে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএনসির দাবি, দেশের ইতিহাসে এক অভিযানেই সর্বোচ্চ পরিমাণ সিসা উদ্ধার হয়েছে।
মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফির মা-বাবা ইরানের নাগরিক। তাদের মা-বাবা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন এবং বাংলাদেশেই এই দুই ভাইয়ের জন্ম হয়। ইরানে তাদের যাওয়া-আসা থাকায় সেখান থেকে তারা সিসা কারবারের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন। বাংলাদেশে ফিরে তারা ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে কারবারের নেটওয়ার্ক গড়তে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তারা বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেন।
আরও পড়ুন: পাবিপ্রবিতে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগে বৃদ্ধা আটক
গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিয়ে বদরুদ্দীন বলেন, এই দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে সিসা ও সিসা সেবনের উপকরণ সরবরাহ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা এলাকায় প্রথম অভিযানে ওই ফেসবুক পেজের নামে পাঠানো ১ কেজি সিসাসহ একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। একই দিনে মালিবাগ থেকে একই পেজের নামে পাঠানো আরো ১ কেজি সিসার পার্সেল জব্দ করা হয়। জব্দ পার্সেল দুটির প্রেরক-ঠিকানা যাচাই করে কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রধান অভিযুক্ত দুই ভাইকে আটক করা হয়। তাদের ফ্ল্যাট তল্লাশি করে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
আটক দুই ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি জানতে পারে, তাদের সরবরাহ করা সিসার একটি বড় অংশ আসতো মাকসুদ আলমের কাছ থেকে। পরে ওই রাতে নূরেরচালা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাকসুদের বাসা তল্লাশি করে আরো ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। চারটি স্থানে মোট ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা এবং মাদক কারবারের কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শিশার কারবার ও অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তার দুই ভাই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার গ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ এবং ডেলিভারির সমন্বয় করতেন। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠানো হত।
ডিএনসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, চক্রটি মূলত বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য গ্রহণ করত। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত একাধিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা অর্থ সংগ্রহ করত, যাতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের প্রবাহ যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশের যখন যা প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেটাই করেছেন: বাকৃবি উপাচার্য
বিপুল সংখ্যক ক্রেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, অভিযানে জব্দ করা মোবাইলফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিস্তৃত গ্রাহক ডাটাবেস উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
