মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০২ পি.এম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মালদ্বীপ প্রবাসীর স্ত্রী ও কন্যাকে লোহার হাতল দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যাশিশুটির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত ও চারটি দাঁত ভেঙে গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি (উত্তরপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামিদুল ও তার স্ত্রী তামান্না সুলতানার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রী মিনি বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সোমবার বিকালে প্রতিবেশী হামিদুল ও তার স্ত্রী তামান্না মিলে মালদ্বীপ প্রবাসী বাবুল সরকারের স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে। একপর্যায়ে তারা লোহার খুন্তির হাতল দিয়ে মিনি বেগমকে মারধর করে। এসময় তাকে বাঁচাতে গেলে তার কন্যা জান্নাতি আক্তার বর্ষাকে অভিযুক্তরা খুন্তির লোহার হাতল দিয়ে তার মুখে স্বজোরে আঘাত করে। এতে জান্নাতির মুখের চারটি দাঁত ভেঙে যায়, ঠোঁট কেটে যায় এবং বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে৷ তখন পুত্রবধূ ও নাতনিকে বাঁচাতে শ্বশুর হাদিউল করিম এগিয়ে আসলে তাকেও ইট মাথায় আঘাত করে। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে দুই হাতেও আঘাত পান৷ পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী জান্নাতি আক্তার বর্ষা বলেন, হামিদুল ও তামান্না মিলে আমাকে মারধর করেছে। আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছে৷ আমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আমার ঠোঁট রক্তাক্ত করেছে, চারটি দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে৷ আমি তো একজন স্টুডেন্ট। আমার তো পড়ালেখা করা লাগবে৷ আমি এর বিচার চাই, দোষীদের শাস্তি চাই। আমার মত আর কোনো মেয়ের সাথে যেন এমন না হয়। তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে পুলিশের কাছে জানালে আমাদের হত্যা করা হবে৷ আমরা নিরাপদভাবে বাঁচতে চাই। পুলিশদের এ দায়িত্ব নিতে হবে।
ভুক্তভোগী মিনি বেগম বলেন, আমি ক্যান্সারের রোগী। একমাস হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগচ্ছি। তবুও ওরা আমাকে কোনো ছাড় দেয়নি। তারা আমাকে মারে, তখন আমার মেয়ে বাঁধা দিতে গেলে তাকেও মারে। মেয়ের গলায় থাকা আট আনার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। আমার মেয়ের বয়স চৌদ্দ বছর। সে বুড়াবুড়ি আজিতুল্যা সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। তার তো বিয়ে দিতে হবে। তাকে মারধর করে চারটি দাঁত ভেঙে দিছে। আমি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমার মেয়ের এমন অবস্থার দায়ভার দোষীদের নিতে হবে৷
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে রাস্তা না থাকায় ঘরের অংশ ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে আব্দুল সালাম (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ দাফন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বিলপালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আব্দুল সালাম কালিহাতী উপজেলার বিলপালিমা গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে। শনিবার রাতে ঘাটাইল উপজেলায় অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান। রাতে কোনোভাবে স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে সকালে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিলপালিমা গ্রামের মাতবর মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় প্রতিবেশীদের রাস্তা বের করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেননি।’
মৃত সালামের ভাই পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ জানান, এলাকাবাসীর শরণাপন্ন হলে রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কবরস্থানে লাশ নেওয়ার সময় চলাচলের রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হন। পরে রাস্তার মাঝখানে থাকা ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে দেন তারা।
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকাবাসীর সহায়তায় পরে কবরস্থানে লাশ দাফন করা সম্ভব হয়েছে। তার ভাইয়ের জানাজা শনিবার রাতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাশ নেওয়ার রাস্তা না থাকায় রোববার সকাল ১১টায় দাফন করতে হয়েছে।’
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বিলপালিমা বর্তা বিলের চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী একাব্বর আলীর সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রায় দুই বছর ধরে বিলপালিমা গ্রামের মোতাহের মাস্টার, কবির, মজিদ ও কাশেমের লোকজন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন।
বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজালাল জানান, প্রতিপক্ষরা রাস্তার মাঝখানে ঘর তুলেছিল। ঘর থাকায় লাশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর ভেঙে রাস্তা তৈরি করেন। এরপর লাশ কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছেন। লাশ দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মাইজদী শহরের মধুসূদনপুর এলাকার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত মাদারল্যান্ড হাসপাতালে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক (অর্থ) ফারুক আল হুসাইন অফিসের কাজ শেষে ১০১ নম্বর কক্ষের ড্রয়ার ও কাঠের লকারে হাসপাতালের আয়ের নগদ টাকা রেখে তালা দিয়ে বাসায় চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কক্ষে ঢুকে তিনি কাগজপত্র ছড়ানো-ছিটানো এবং ড্রয়ারের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালের পরিচালক ফারুক আল হুসাইন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় রাধা মাধব কল্যান ট্রাস্টের নামে হাসপাতাল,শিক্ষালয় এবং মন্দির তৈরির জন্য দান করা জমি ভরাট কাজে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যােগে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে৷
এসময় জমিদাতা সুশান্ত কুমার গোস্বামী,রাধা মাধব কল্যান ট্রাস্টের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন চন্দ্র ঘোষ,সদস্য চন্দ্রী পাল এবং স্থানীয় মারুফা খান ও প্রিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,স্থানীয় সুশান্ত কুমার গোস্বামী নাগরপুরের ভারড়া মৌজার ১২৬৪ দাগের ১২৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ১০ শতাংশ জমি বিনামূল্যে হাসপাতাল তৈরির জন্য ঘোষণা পত্রের দলিল মূলে দান করেন। পরবর্তীতে ৬ অক্টোবর দুপুরে ওই জমিতে ট্রাক দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে প্রয়াত স্হানীয় সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুস মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী রাশেদা কুদ্দুস এবং তাদের ছেলে বিজয় এবং জয় সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এসে বাধা প্রদান করেন।এসময় সুশান্ত কুমার গোস্বামী ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেয়।
যার প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন কর্মমূচি পালন করছি।এখানে একটি হাসপাতালে নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি৷
আমরা এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করছি এবং সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠান গুলো নির্মাণ করে জনকল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার হয় সেই দাবী করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতি সপ্তাহে একদিন শেরপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণশুনানির থেকে বেছে বেছে দুঃস্থ অসহায় ১৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই হুইল চেয়ার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় অসুস্থ হতদরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং প্রতিবন্ধীদের কাছে গিয়ে জেলা প্রশাসক এসব হুইল চেয়ার বিতরণকালে সদর উপজেলার ভাতশালা গ্রামের সাহা বানু নামে ৭০ উর্ধ্বর প্রতিবন্ধী বৃদ্ধারা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এসময় তারা জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনকে মা বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন, “এইটা আমাদের মা, এই মায়ের জন্য আমরা আজ ম্যালাদিন (দীর্ঘদিন) বিছনায় পইরা থাহার পর একটু কমর ডা সোজা কইরা বহার ব্যবস্থা হইল।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এই হুইল চেয়ার গুলোর মধ্যে ১০ টি প্রদান করেছেন শেরপুরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। এছাড়া তিনটি চেয়ার জেলা প্রশাসন ও একটি জেলা সমাজসেবা তহবিল থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে।এদিকে হুইল চেয়ার পেয়ে খুশি হয়েছেন প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং প্রতিবন্ধীরা।
এই হুইল চেয়ার বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াছমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহাম্মেদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, সমাজসেবক রাজিয়া সামার ডালিয়া, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, বিএনপি নেতা আউয়াল চৌধুরি, আবু রায়হান রুপন, জামাত নেতা আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ