মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৬ পি.এম
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মাইজদী শহরের মধুসূদনপুর এলাকার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত মাদারল্যান্ড হাসপাতালে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক (অর্থ) ফারুক আল হুসাইন অফিসের কাজ শেষে ১০১ নম্বর কক্ষের ড্রয়ার ও কাঠের লকারে হাসপাতালের আয়ের নগদ টাকা রেখে তালা দিয়ে বাসায় চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কক্ষে ঢুকে তিনি কাগজপত্র ছড়ানো-ছিটানো এবং ড্রয়ারের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালের পরিচালক ফারুক আল হুসাইন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় রাধা মাধব কল্যান ট্রাস্টের নামে হাসপাতাল,শিক্ষালয় এবং মন্দির তৈরির জন্য দান করা জমি ভরাট কাজে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যােগে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে৷
এসময় জমিদাতা সুশান্ত কুমার গোস্বামী,রাধা মাধব কল্যান ট্রাস্টের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন চন্দ্র ঘোষ,সদস্য চন্দ্রী পাল এবং স্থানীয় মারুফা খান ও প্রিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,স্থানীয় সুশান্ত কুমার গোস্বামী নাগরপুরের ভারড়া মৌজার ১২৬৪ দাগের ১২৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ১০ শতাংশ জমি বিনামূল্যে হাসপাতাল তৈরির জন্য ঘোষণা পত্রের দলিল মূলে দান করেন। পরবর্তীতে ৬ অক্টোবর দুপুরে ওই জমিতে ট্রাক দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে প্রয়াত স্হানীয় সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুস মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী রাশেদা কুদ্দুস এবং তাদের ছেলে বিজয় এবং জয় সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এসে বাধা প্রদান করেন।এসময় সুশান্ত কুমার গোস্বামী ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেয়।
যার প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন কর্মমূচি পালন করছি।এখানে একটি হাসপাতালে নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি৷
আমরা এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করছি এবং সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠান গুলো নির্মাণ করে জনকল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার হয় সেই দাবী করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতি সপ্তাহে একদিন শেরপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণশুনানির থেকে বেছে বেছে দুঃস্থ অসহায় ১৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই হুইল চেয়ার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় অসুস্থ হতদরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং প্রতিবন্ধীদের কাছে গিয়ে জেলা প্রশাসক এসব হুইল চেয়ার বিতরণকালে সদর উপজেলার ভাতশালা গ্রামের সাহা বানু নামে ৭০ উর্ধ্বর প্রতিবন্ধী বৃদ্ধারা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এসময় তারা জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনকে মা বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন, “এইটা আমাদের মা, এই মায়ের জন্য আমরা আজ ম্যালাদিন (দীর্ঘদিন) বিছনায় পইরা থাহার পর একটু কমর ডা সোজা কইরা বহার ব্যবস্থা হইল।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এই হুইল চেয়ার গুলোর মধ্যে ১০ টি প্রদান করেছেন শেরপুরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। এছাড়া তিনটি চেয়ার জেলা প্রশাসন ও একটি জেলা সমাজসেবা তহবিল থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে।এদিকে হুইল চেয়ার পেয়ে খুশি হয়েছেন প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং প্রতিবন্ধীরা।
এই হুইল চেয়ার বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াছমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহাম্মেদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, সমাজসেবক রাজিয়া সামার ডালিয়া, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, বিএনপি নেতা আউয়াল চৌধুরি, আবু রায়হান রুপন, জামাত নেতা আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে সমূদয় অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন দূর্নীতি অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংবলিত জেলা প্রশাসক বরাবর আবদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান।
তিনি পলমাটি গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
তদন্তকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করা এবং নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত বক্তব্যে গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি হাজী আব্দুর নূর বলেন - আমাদের প্রাইমারি স্কুল থেকে গ্রামের সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।
সুলতান আহমদ বলেন --মাটি ভরাট করবে দূরের কথা মেম্বার সুজন কোন দিন বলেওনি যে আমাদের স্কুলের রাস্তায় ১ টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে।
জাকির হোসেন বলেন -- স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলা চলের রাস্তা নির্মাণে সরকার টাকা বরাদ্ব দিয়েছে সমূদয় টাকাই আত্মসাৎ করেছেন মেম্বার সুজন মিয়া। আমরা গ্রামবাসী এটা জেনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে এম পি ও ডিসি সাবের কাছে আবেদন করেছি। আপনি আজকে সরজমিনে এসে দেখলেন এবং উপস্থিত শত মানুষের মুখে শুনলেন ১ টি টাকার মাটিও কাটেনি। এই লুটপাট ও দূর্নীতির বিচার চাই। তদন্ত কর্মকর্তা তখন উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান কেউ কি জানেন বা দেখেছেন পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে পলমাটি সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কোন মাটি ভরাট বা কাটা হয়েছে? উপস্থিত জনতা সবাই বলেন এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।
সুজন মেম্বার তার বক্তব্যে বলেন - পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ নামে কোন প্রকল্প নেই, উপস্হিত সাংবাদিক,গ্রামবাসী ও তদন্ত কর্মকর্তা ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর সংবলিত প্রকল্পের নামের কাগজ প্রদর্শন করিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন এটা ২৮ শা মাছিমপুরের সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সেখানে আমি বেকু দিয়ে মাটি কেটে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ছবি দিয়েছি তারা তা দেখে টাকার চেক দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জনাব শামছুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে ১ জন মাষ্টার ১জন ইমাম রাখা লাগে তাদের নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে সুজন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার মনে নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাছ থেকে জেনে নিয়েন।
গ্রামবাসীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের উদ্যোগে সরেজমিন তদন্ত শুরু হওয়ায় তারা ন্যায় বিচারের আশাবাদী।
তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান সরেজমিনে বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন ও স্থানীয়দের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তদন্ত শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চার বছর ধরে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকার পর, দিনাজপুর-হিলি চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে। এর ফলে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক, পথচারী এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটেছে এবং স্বস্তি ফিরে এসেছে।
,,。,,。。
কিছু জায়গায় নির্মাণ কাজ অর্ধেক অবস্থায় পড়ে রয়েছে, আবার কিছু স্থানে জমি অধিগ্রহণের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মুশফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, "দীর্ঘদিনের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ফোরলেন সড়কের নির্মাণ কাজ। এতে আমরা অনেক খুশি। বিগত সময়ের কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু শুরুর পর অল্প কিছু কাজ করে ঠিকাদার চলে যায়। এতে জনদুর্ভোগ আরো বেশি বেড়ে যায়। আবারও কাজ শুরু হয়েছে, আমরা আশার আলো দেখছি এবং চাই কাজটি যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।"
তিনি আরও বলেন, "হিলি স্থলবন্দর এখানে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। রাস্তার কাজ শেষ হলে ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তি কমবে এবং আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটা কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে।"
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, "জিরো পয়েন্ট থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যেসব স্থানে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে জোরেশোরে কাজ চলছে। হিলি আয়তনের ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। হিলি স্থলবন্দর এর গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা দ্রুততম সময়ে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও বলেন, "এখনো কিছু স্থানে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি, সেসব জায়গায় জমি বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। জমি বুঝে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে আমাদের পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে।"
দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী আমানুল্লাহ আমান জানান, "হিলি ফোরলেন সড়কে নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত জুনে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রকল্পের ভূমি অধিকরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৫০ জন জমির মালিককে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জমি বুঝে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হিলি স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে বিভিন্ন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে যত দ্রুত সম্ভব সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য।"
হিলি জিরো থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় হবে ৬৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ