শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৯ পি.এম
দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতি ভেঙে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে এর ভবিষ্যৎ। বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সদ্য সাবেক রাকসুর নেতারা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ভোটগ্রহণের তারিখ সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হলেও, কয়েক দফা পরিবর্তনের পর ১৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্যানেলটির ২৪ দফা ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। তবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান।
তিনি বলেন, "এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে উপাচার্যের ওপর। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই নির্বাচন হবে।" উপাচার্য আমাকে আগের নির্বাচনের অবস্থা, কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কী কী সমস্যা ছিল সেসব তথ্যসহ একটি ফাইল দিতে বলেছিলেন। আমি সে অনুযায়ী তাকে ফাইল দিয়েছি।
সেতাউর রহমান বলেন, "তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।" সেই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রাখার অংশ হিসেবে হয়তো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তার কিছুই এখনো দৃশ্যমান নয়।
তবে রাকসুর বর্তমান নেতাদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত দাবি জানিয়ে আসছেন।
রাকসুর সাবেক এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, "পরবর্তী রাকসু যাতে ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে, সেটি আমাদের ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল।" এ লক্ষ্যে তৃতীয় অধিবেশন থেকেই উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়ে আসছি। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উপাচার্য বর্তমান কোষাধ্যক্ষকে নির্বাচনের তফসিল প্রণয়ন ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ দুটি বিষয়ে দ্রুত তাকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তফসিল ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।" আমরা কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, শিগগিরই এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারব।
রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, "রাকসু আদায় করে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।" আমার ইশতেহারেও রাকসু সচল রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
রাকসুর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, "রাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি।" তবে আমাদের মনে হচ্ছে, প্রশাসন দলীয় সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, "প্রশাসন অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিলেও রাকসু নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।" নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি নেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় ছাত্ররা চাইলে নির্বাচন হবে।
জাহিদ আরো বলেন, "ছাত্ররা যে নির্বাচন চায়, সেটি তো গত নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়েছে।" আমাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসন নির্বাচন না দেওয়ার পথ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচন নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবছি।" আমরা সব সময়ই চাই ছাত্র সংসদ থাকুক ও নির্বাচন হোক। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। শুধু সময় হলেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়, সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকতে হয়। যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হবে, তখনই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি
রাকসুর নির্বাচন ও কার্যক্রম ধারাবাহিক রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, "রাকসু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণ্ণ রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।" শিক্ষার্থীদের লিগ্যাল প্ল্যাটফর্ম বলা যায়। প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে সেতুবন্ধন, সেটির জন্যও রাকসু গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে চাই, রাকসু নির্বাচন অব্যাহত থাকুক।
তিনি আরো বলেন, "রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে।" তাই অনতিবিলম্বে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা বলছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এমন কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি, যার কারণে রাকসু নির্বাচন দিলে পরিবেশ ঘোলাটে হবে। আমরা স্মারকলিপির মাধ্যমে আবারও দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানাব।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, "স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন তথা ছাত্র সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান জরুরি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরের অপর নাম ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এটি শুধু ছাত্রদল নয়, প্রতিটি সংগঠনের কাছেই জনপ্রিয় দাবি। আমরা বরাবরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। রাকসুর এই ধারা অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, "এবারের রাকসু প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাকসুর প্রয়োজন রয়েছে।" আগামীতে শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করলে এর মাধ্যমে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, আপনারা রাকসুর দাবিতে সোচ্চার হোন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাকির হোসেন হত্যার চার বছর অতিবাহিত হলেও তার পরিবার মামলা করতে পারছে না। তারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের ফলে জাকির হোসেনের মৃত্যু ঘটে। ওই দিন ভোরে মোকাম এলাকার নিজ বাড়ির পাশে তার লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। মৃত জাকির হোসেন ছিলেন মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি।
ঘটনার সময় বুড়িচং থানার ওসি ছিলেন আবুল হাসনাত খন্দকার। তিনি তখন দাবি করেছিলেন, পুলিশ জাকিরকে না পেয়েই ফিরে এসেছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই বক্তব্য দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।
তবে পরিবারের অভিযোগ, সদর সার্কেলের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, ওসি আবুল হাসনাত খন্দকার, বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ এবং এসআই রাজীবের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। তাদের নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ সময় স্থানীয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সহযোগিতা করেছিল।
বুড়িচং দেবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ উল ইসলাম পুলিশের অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে বলেছিলেন, রাতে জাকিরের বাড়িতে পুলিশের একটি দল গিয়েছিল, তবে তাকে না পেয়ে ফিরে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, জাকিরের হাতে হাতকড়ার দাগ ছিল এবং অণ্ডকোষ নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। তার চেহারা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশী শাকিব হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, যে স্থানে জাকির হোসেনের মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল, সেখানে মিজান কাকা নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় দেখেন জাকির মাটিতে পড়ে আছেন। তখন তিনি সবাইকে ডাকাডাকি করেন। আমরা সবাই মিলে তাকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান তিনি বেঁচে নেই। ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হলেও জাকিরের পরিবার এখনো কোনো বিচার পায়নি।
যে ঘরটির পাশে জাকিরকে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই ঘরের মালিক মাজেদা খাতুন ভয় ও আতঙ্কে বলেন, তখন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ভয়ে জাকির নিচে লুকিয়ে থাকত। আমি কতবার তাকে এই অবস্থায় দেখেছি। কিন্তু যেদিন তাকে মেরে ফেলে রেখে যায়, সেদিন আমরা কোনো শব্দ শুনতে পাইনি। ফজরের সময় শুধু চিৎকার শুনতে পাই যে জাকিরকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে।
জাকির হোসেনের শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে সরেজমিনে কথা হয়। তিনি বলেন, মামলা করে কী হবে? আল্লাহ বিচার করবেন। আমার মেয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এখন মামলা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার মেয়ে ও নাতিদের মেরে ফেলবে। বিএনপিও আমার মেয়ে এবং নাতিদের কোনো খোঁজখবর রাখছে না। তারা একটি ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
জাকির হোসেনের স্ত্রী আকলিমা আক্তার পলি বলেন, কেন তারা মামলা করছেন না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যখন তার স্বামীকে হত্যা করা হয়, তখন তিনি মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই বলেছেন, মামলা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়বে না, কারণ তার একটি ছোট ছেলে ও মেয়ে আছে। এই ভয়ে তিনি তখন মামলা করতে পারেননি। তিন বছর হয়ে গেছে, এখন মামলা করে আর কী হবে?
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী বিএনপির রাজনীতি করতেন। তিন বছর ধরে আমরা পরিবার নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে আছি। ভাঙা একটি টিনের ঘরে বসবাস করছি। শুধু গত দুই ঈদে বিএনপির নেতারা খোঁজ নিয়েছিলেন, এরপর আর কেউ খোঁজ রাখেননি। আমার স্বামী দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, অথচ আজ আমরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।
উপজেলা মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, জাকির হোসেনকে হত্যার পর তার জানাজায় আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। এর দুই দিনের মাথায় আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবার কেন এখনো মামলা করতে পারছে না, সে বিষয়ে জাকিরের স্ত্রীই ভালো বলতে পারবে।
বুড়িচং থানার বর্তমান ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অনেক দিন আগের। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। ভুক্তভোগী পরিবার যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয় কম্বল, মদ, কয়লা, চিনি, সাবান এবং দেশীয় রসুনসহ ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন ৩১।
আজ সকালে বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী।
তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা এবং চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্যে, সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন ও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে ২৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী স্থানে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ব্যাটালিয়নের অধীন পাঁচগাঁও, বিজয়পুর এবং ভবানীপুর বিওপির চৌকস টহল দল স্থানীয় দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সফলভাবে অভিযানগুলো সম্পন্ন করে। অভিযানের সময় সীমান্ত পিলার ১১৮১/৫-এস, ১১৮১/৬-এস, ১১৫১ এমপি, ১১৫২ এমপি এবং ১১৫৩ এমপি’র কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে মোট ৪১ পিস ভারতীয় কম্বল, ৭২ বোতল ভারতীয় মদ, ১৭ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় কয়লা, ২০০ কেজি চিনি, ৮০০ পিস সাবান এবং ৩৬০ কেজি বাংলাদেশী রসুন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজিবির টহল দল চোরাচালানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের পালিয়ে যেতে দেখে, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব পণ্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মোট মূল্য ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জননিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ পণ্য পারাপার ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, জব্দকৃত চোরাই পণ্যের আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে বিজিবি কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এবং অন্যান্য চোরাই পণ্যসমূহ (কম্বল, কয়লা, চিনি, সাবান ও রসুন) নেত্রকোণা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এসব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৫ বিশিষ্ট সদস্য শেরপুর। সদর উপজেলার নার্সারী ব্যবসায়ী। মালিক কল্যাণ সমিতির নতুন। কার্যকরী কমিটি সভায় অনুমোদন দিয়েছেন। শেরপুর জেলা নার্সারি কল্যাণ মালিক সমিতি।
সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
সহ-সভাপতি মোঃ হান্নান মিয়া। সাধারণ সম্পাদক- মোঃ রাসেল মিয়া। সহ-সাধারণ- সম্পাদক
মোঃ সাইদুর ইসলাম।
কোষাধক্ষ-মোঃ মানিক মিয়া।
প্রচার সম্পাদক মোঃ আলম মিয়া
সদস্য, মোঃ কুদ্দুস মিয়া মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ নূর হোসেন, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ কমল মিয়া, মোঃ আশিক মিয়া, মোঃ আরিফ মিয়া, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জনি মোঃ ফজল মিয়া। ০২-১০-২০২৬ তারিখে
১৫ পনেরো সদস্য বিশিষ্ট শেরপুর সদর উপজেলার নার্সারী ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতির নতুন কার্যকরী কমিটি সভায় অনুমোদন দিয়েছেন। শেরপুর জেলা নার্সারি কল্যাণ মালিক সমিতি সভাপতি। মোঃ সাদেক আলী ও
সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান।
ও
শেরপুর সদর উপজেলা নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতির
নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন আলোচনা সভার সভাপতি
মোঃ লুৎফর রহমান
স্বাক্ষরিত প্যাটে অনুমোদন দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে বারবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয় এবং বড় ধরনের বিভ্রাটের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি, তবুও জ্বালানির সংকট, সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কার্যকর ব্যাকআপের অভাবে বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে তা মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য সরকারের। আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে জাতীয় গ্রিড কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতীতের গ্রিড বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে এখনই জোর দেওয়া জরুরি।
গত মঙ্গলবার মেঘনাঘাট এলাকায় জাতীয় গ্রিডে কারিগরি ত্রুটির পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত গ্রিড সুরক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হবে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গ্রিডের ত্রুটি, দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় মোকাবেলায় তাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন। স্পিনিং রিজার্ভ বা আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতি সামাল দেওয়ার মতো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া বা উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে।
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। এসব বিদ্যুৎ দেশের উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও সঞ্চালন ও গ্রিড পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যালোকের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে আবহাওয়া ও দিনের সময় অনুযায়ী উৎপাদনে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে। গ্রিডে এ ধরনের পরিবর্তন সামাল দেওয়ার জন্য প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত রিজার্ভ সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কোনো কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প উত্স থেকে ঘাটতি পূরণের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, "সাম্প্রতিক গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এখনো চিহ্নিত হয়নি। কারিগরি কমিটির তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে সঞ্চালন লাইনে কোনো ত্রুটির পর ফ্রিকোয়েন্সির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার ক্যাসকেডিং ইফেক্ট তৈরি হতে পারে। এতে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "সামনে দেশের বিদ্যুত্ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার বড় পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গ্রিডের আধুনিকায়নে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে গ্রিডে ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন এবং বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের আকস্মিক ভারসাম্যহীনতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।"
শফিকুল আলম বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানি আবহাওয়ানির্ভর ও পরিবর্তনশীল। সূর্যালোক থাকলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন দ্রুত বাড়তে পারে, আবার সূর্যালোক কমে গেলে উৎপাদন হঠাৎ কমে যেতে পারে। ভবিষ্যতে গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লে এ ধরনের ওঠানামা সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাই ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য থাকলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রিডেও বিনিয়োগ ও আধুনিকায়ন করতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "রুফটপ সোলারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারবে কখন এবং কি পরিমাণ বিদ্যুৎ রুফটপ সোলার থেকে গ্রিডে আসছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ কমে বা বেড়ে গেলে কিংবা চাহিদায় আকস্মিক পরিবর্তন এলে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
উৎপাদন সক্ষমতা বেশি, কার্যকর ব্যাকআপে ঘাটতি : দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু স্থাপিত সক্ষমতা আর প্রয়োজনের সময় বাস্তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এক নয়। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকটের কারণে সব কেন্দ্র থেকে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না। ফলে কোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা গ্রিড বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা না গেলে এবং আকস্মিক ঘাটতি পূরণের মতো পর্যাপ্ত স্পিনিং রিজার্ভ না থাকলে গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ে। এ অবস্থায় সঞ্চালন লাইনে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এর আগে গত মাসে হঠাৎ ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। তখন অন্য কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন বাড়াতে না পারায় দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে যায়।
বিপিডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, "বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হলেও ব্যাকআপে বড় ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কারিগরি ত্রুটির কারণে আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানির অভাব ও পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাত্ক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুত্ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়।"
বারবার বিপর্যয়, একই উদ্বেগ : গত এক দশকে জাতীয় গ্রিড ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রিড উপকেন্দ্রে একাধিক বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিদ্যুিবভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ মে জাতীয় গ্রিডের আংশিক বিপর্যয়ে ৩২ থেকে ৩৭টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। ভৈরবের কাছে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আমিনবাজার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২৩০ কেভি সার্কিট ব্রেকার বিস্ফোরণে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
২০২৫ সালের ১১ মার্চ একই উপকেন্দ্রে ট্রান্সফরমারের কারিগরি ত্রুটিতে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অন্তত দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। ওই বছরের ২৬ এপ্রিল আমিনবাজার উপকেন্দ্রে ত্রুটিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবারের ঘটনা আবার দেখিয়েছে, সঞ্চালনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কোনো অংশে ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়। কোথাও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি, কোথাও উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির সমস্যা, আবার কোথাও উৎপাদন ও সঞ্চালনব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিড বিপর্যয় ঘটলেই তা বড় দুর্ঘটনার ইঙ্গিত নয়। তবে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে এর অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান, ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আগামী দিনে পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং বিপুল পরিমাণ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ আরো বাড়বে। তাই শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই চলবে না; উৎপাদন ও চাহিদার তাত্ক্ষণিক ভারসাম্য রক্ষা, পর্যাপ্ত স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করা এবং গ্রিডের নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়নে সমন্বিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যথায় একটি সঞ্চালন লাইন বা উপকেন্দ্রের ত্রুটিও বড় অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ