বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৪ এম
সুদানের দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে ড্রোন হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১৩ জন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, সোমবার এই হামলা সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, হামলাটি শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে পরিচালিত হয়। সেখানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। হামলায় যোদ্ধাদের পাশাপাশি খাবার ও চা বিক্রেতারাও প্রাণ হারান।
তবে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য ভিন্ন। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর দেয়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানায়, হামলার পর নিয়ালার একটি হাসপাতালে ৩৬ জনের মৃতদেহ আনা হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের পরনে ছিল বেসামরিক পোশাক। এছাড়া জরুরি বিভাগে দেড় শতাধিক আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
এমএসএফ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাজার, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলা দেশটিতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুটি কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে, কারণ তারা সম্পূর্ণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এবং অস্বাস্থ্যকর উপায়ে চিপস ও চানাচুর উৎপাদন করছিল। এই কার্যক্রম বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত মোট ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন চিপস ও চানাচুর ফ্যাক্টরিতে একটি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে নীলফামারী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবিএন) একটি চৌকস টিম সহযোগিতা করে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনহীনভাবে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কারখানা দুটিকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ‘নাজ ফুড প্রোডাক্টস’-কে ১ লাখ টাকা এবং ‘লিটন ফুড প্রোডাক্টস’-কে ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, "লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য উৎপাদনে সবাইকে নিরুৎসাহিত করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।" তিনি আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক ও শ্রমিকসহ সকলকে সচেতন করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে দুই স্কুলশিক্ষার্থী, মো. আদিল (১৪) ও জিসান (১০), নিখোঁজ হয়েছে। আদিল রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। অপরদিকে, জিসান বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের পরিবার দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে।
নিখোঁজ আদিল উপজেলার কালিকাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফকিরবাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আদিলের চাচা মো. রাকিব জানিয়েছেন, আদিল ২৫ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ আদিলের বয়স ১৪ বছর, উচ্চতা আনুমানিক ৪ ফুট এবং গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা।
অন্যদিকে, নিখোঁজ জিসান ষোলনল ইউনিয়নের বেড়াজাল গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেনের ছেলে। তিনি নানুয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জিসানের চাচাতো ভাই হাফেজ মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে জিসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
বুড়িচং থানার ওসি (তদন্ত) মঞ্জরুল হক বলেন, ‘আদিলের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিসানের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।’
দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পেলে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে একটি পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্সে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবর্তনের সময় আগুন লেগে যায়।
থরপারকারের সহকারী কমিশনার এরুম করিম নারেজো বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পিপিএইচআইয়ের একজন ডিসপেনসার, অ্যাম্বুলেন্সচালক, একজন নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য একজন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তার সঙ্গে থাকা দুজন ব্যক্তি রয়েছেন বলেও উদ্ধারকর্মীরা পূর্বে জানিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই ধাত্রী ও একজন নারী সহকারী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার।
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পরপরই বউবাজার থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বারবার নোটিশ পাঠানোর পরও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি।
এই সময়-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ‘মাস আর্ট’ সংস্থার বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার পাস বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্তে পুলিশ ও ইডি জানায় যে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুর্গোৎসবের পাস বিক্রি করে সংস্থাটি প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেন করেছে, যার একটি বড় অংশ ইন্দ্রনীল ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্ল্যাটিনাম ও গোল্ডসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে ১ লাখের বেশি পাস বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অর্থ থেকে ক্লাবগুলোকে কমিশন দেওয়া হতো। এ ছাড়া, মন্ত্রী থাকাকালে নিজের ঘনিষ্ঠদের ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার দিয়ে সেই টাকা আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দারা ইন্দ্রনীলের ওপর নজর রাখছিলেন, কিন্তু তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। বুধবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির মুখোমুখি হতে আসার খবর পেয়ে দুপুরে সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিধাননগর নর্থ থানার টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তিনি বাইরে এলে সরাসরি তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেবল সূচনা মাত্র এবং প্রকৃত দোষীদের সবাইকে জেলে যেতে হবে।" অন্যদিকে, মামলার মূল অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, "৩০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি তো কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ