ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হলো নীহারিকাকে


অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হলো নীহারিকাকে

ছবি: সংগ্রহীত

কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন নীহারিকা এনএম। বলিউডে অভিষেকের পর নিজের ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ না হওয়ায় একসময় একটি বড় সিনেমার সুযোগ ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে।

গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে নীহারিকার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল। সিনেমাটি মুক্তির আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে আসার পথ, প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারিয়ারে নেওয়া কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান নীহারিকা।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর মঞ্চ মাতাবে নগরবাউল জেমসসহ ৭টি ব্যান্ডদল

অভিনয়ে আসার আগে থেকেই তার চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং থিয়েটারেও কাজ করেন।

তবে বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত প্রত্যাশা তাকে হতাশ করেছে। পাশাপাশি বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও তার কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি।

নীহারিকার ভাষ্য, প্রথম দিকে বলিউডেই কাজের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চাননি। পরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজের দিকে মনোযোগ দেন।

একপর্যায়ে নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিনটি সিনেমার চুক্তি করেন নীহারিকা। তবে এই চুক্তিই পরে তার ক্যারিয়ারের একটি বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: পপিকে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন গীতিকার মিল্টন খন্দকার

চুক্তির মেয়াদ চলাকালে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি ভালো সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে সেসব সিনেমায় কাজ করতে পারেননি। পরে ওই সিনেমাগুলো বক্স অফিসে সফল হওয়ায় বিষয়টি এখনো তাকে আক্ষেপে পোড়ায় বলে জানান নীহারিকা।

তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

এর মধ্যেই ক্যারিয়ারের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নীহারিকা। এক খ্যাতিমান পরিচালকের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট দিয়েছেন তিনি। সবকিছু পছন্দ হওয়ার পর চুক্তিপত্রেও সই করেন।

পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় সংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান নীহারিকা। তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্ট করে জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন।

আরও পড়ুন: দিয়া মির্জাকে নিয়ে বিতর্কের মাঝে সরব আলিয়ার মা সোনি রাজদান

তার আপত্তির পর বিকল্প হিসেবে বডি ডাবল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও কাজে আসেনি। নীহারিকার দাবি, তার সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি।

এরপর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নীহারিকাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, হয় ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, নয়তো সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানেই অটল থাকেন নীহারিকা। সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে ওই পরিচালক বা সহশিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি।

নীহারিকার বক্তব্য, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি। ক্যারিয়ারে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: ‘রামায়ণ’-এর সেটে রণবীরের সঙ্গে আলিয়ার বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজয়নগরে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ এম


বিজয়নগরে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করতে গিয়ে হেবজু মিয়া (৫৫) নামের এক ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হেবজু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে সকাল ৬টার দিকে কোয়েল পাখির ডিম নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পাইকপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাটিতে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, হেবজু মিয়ারের মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এডিএমের কাছে আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ এম


আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এই সফরের সময় তিনি কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, আজ রোববার (৯ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এরপর তিনি মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা জানালেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ এম


সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা জানালেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নাজুক এই দ্বীপটির পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার লক্ষ্যে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষায় মহাপরিকল্পনার বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম তুলে ধরেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দ্বীপে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে শেখ ফরিদুল ইসলাম এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, 'দ্বীপের বাসিন্দাদের স্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব-সবকিছুর সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ৮ থেকে ১০ আগস্ট দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম চলছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই সেন্টমার্টিন তৈরী করা।'

শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং অস্তিত্ব রক্ষায় নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে সেন্টমার্টিন নিয়ে। দ্বীপটির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব নিরাপত্তার পাশাপাশি এখানকার বাসিন্দাদের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হবে।'

তিনি উল্লেখ করেন, 'সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা দ্বীপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বীপের সংরক্ষণ করেছেন এবং দ্বীপটির সঙ্গে তাদের রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। সুতরাং, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, বাসিন্দাদের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের মধ্যে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।'

প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন, 'সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত এবং বাস্তবতা পর্যালোচনা করেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।'

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'সেন্টমার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, এটি আমাদের দেশের ঐতিহ্য, অস্তিত্ব এবং ভালোবাসার স্থান। একটাই সেন্টমার্টিন, তাই এর প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়াও, উপকূলীয় পরিবেশ এবং মাটির উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন করে এসব গাছ রোপণ করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ম্যানগ্রোভসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে।'

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের সুস্থতা রক্ষায় বৃক্ষরোপণের এটা অপরিহার্য। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোস্ট গার্ড, ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হবে। তবে, শুধু গাছ লাগালেই চলবে না; সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের এগুলো নিয়মিত পরিচর্যা এবং সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এবং টেকসই সেন্টমার্টিন গড়ে তোলা।'

তিনি আরো বলেন, 'সবুজায়ন কর্মসূচির আওতায় ৮ থেকে ১০ আগস্ট দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। আম, পেয়ারা, নিম, বহেরা, হরীতকী, জারুল, কেয়া এবং নারিকেলসহ উপকূলীয় পরিবেশের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে। প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান হচ্ছে- স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য তেমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।'

সেন্টমার্টিনকে শুধুমাত্র পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, দেশের ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে রক্ষার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয়দের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে গড়ে উঠবে সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এবং টেকসই সেন্টমার্টিন।'

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যেকোনো সময় যদি পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়, সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সরকার কোনও ধরনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না; বরং প্রশাসনের সহযোগিতায় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'সেন্টমার্টিনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা এখানে বসবাস করেন, তাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের ক্ষতি সৃষ্টি করে। সেন্টমার্টিনের প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।'

এ সময় উপস্থিত ছিলেন: সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনসাধারণ, পরিবেশকর্মী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমন্বয় অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক।

উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গত ৩ বছরে দেশজুড়ে ৩২ লাখ চারা রোপণ করেছে এবং আগামী ৫ বছরে আরও ৭৫ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে এই সংস্থা সারাদেশে ১৫ লাখ এবং কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা চতুর্থ শিরোপা হলো না হৃদয়ের জাফনার, এলিপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হল গল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ এম


টানা চতুর্থ শিরোপা হলো না হৃদয়ের জাফনার, এলিপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হল গল

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপার স্বাদ তাওহীদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসানের জন্য ফিরে আসেনি। শনিবার (৮ আগস্ট) ফাইনালে জাফনা কিংসের টানা শিরোপা জেতার ধারাকে ভেঙে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গল গ্ল্যাডিয়েটর্স।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এলপিএল ফাইনালে জাফনা কিংসকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের প্রথম শিরোপা জয় করেছে গল গ্ল্যাডিয়েটর্স।

তবে পুরো টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও ফাইনালের খেলায় বল হাতে সাকিব আল হাসান জ্বলে ছিলেন। তিনি ১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে লো স্কোরিং ফাইনালে জাফনাকে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, কিন্তু জেতাতে পারেননি এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ১২৩ রানের লক্ষ্য চূড়ান্তভাবে ১৫.৫ ওভারেই কচ্ছপের গতিতে পার হয়ে যায় গল।

কোয়ালিফায়ারে রেকর্ড দ্রুততম ফিফটি করে জাফনাকে ফাইনালে উঠতে সহায়তা করা তাওহীদ হৃদয় ফাইনালে হতাশার ছায়া ফেলেছেন। তিনি ১০ বলে মাত্র ১০ রান করেন। অন্যদিকে সাকিবও ১৩ বলে ৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। টস জিতে ব্যাটিং শুরু করে জাফনা ১৯.৩ ওভারে ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার কামিল মিশারা, যিনি ৪১ রান করেন। তবে পুরো ইনিংসে তার রান সংগ্রহের গতিও ছিল মন্থর। চারিথ আসালাঙ্কা ও এশান মালিঙ্গা তিনটি করে উইকেট নেন। থারিন্দু রত্ননায়েকে ১৪ রানে ২ উইকেট দখল করেন।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গলও তাদের শুরু ভালো করতে পারেনি। দুই ওপেনারই কম রানে ফিরে গেছেন। এরপর থমাস ফ্রেজার রজার্সের ২৭ বলে ৩৪ এবং দিনুরা কালুপাহানার ১৯ বলে ৩১ রানের ইনিংসে গল ঘুরে দাঁড়ায়। তারা দুজনে মিলে ৬৪ রানের একটি জুটি গঠন করেন।

তবে এরপর আবার গল কিছুটা চাপে পড়ে। সাকিব একই ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারান গল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ সামলে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ২৫ বল হাতে রেখে তারা ম্যাচটি জিতে নেয়।

এই হারের মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো এলপিএল শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে জাফনার। আর গল গ্ল্যাডিয়েটর্স তাদের ইতিহাসের প্রথম এলপিএল চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%