মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
১১:১৮ এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের অসহায় স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার (খাদিজা আক্তার) কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ায় তাঁর প্রতি নেত্রকোনাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
নিহত সাংবাদিকের পরিবারের এমন কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় ডেপুটি স্পিকারের এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।
আলিফের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রথমে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। তাঁর পক্ষ থেকে পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়। পরে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সর্বশেষ আনন্দিতা সাংমা রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। বর্তমানে দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে শোকাহত পরিবারটির জীবনযাপনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নিহত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি নেত্রকোনাবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবেলায় বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা মোকাবেলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদ-নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার হবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন হবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির ফলে বছরে প্রায় সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। মাছের উৎপাদন বাড়বে প্রায় আড়াই লাখ টন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে এ প্রকল্পের জন্য আলাদা অফিস করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুর এবং ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরের সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন তারা।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একসময় প্রাণবন্ত ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের নদীব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়ালসহ অনেক নদী নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পলি জমা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় পানির স্তরও নিচে নামছে। কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রভাবিত হচ্ছে।
এদিকে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়তে পারে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নির্মিত হবে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো। পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পেও পানি সরবরাহ বাড়বে। প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিভাগের ১০টি, ঢাকা বিভাগের তিনটি, রাজশাহী বিভাগের পাঁচটি এবং বরিশাল বিভাগের একটি জেলা রয়েছে। এসব অঞ্চলের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে লবণাক্ততা কমানো এবং সুন্দরবনে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরো ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ অবস্থায় মিঠাপানির সরবরাহ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটির লবণাক্ততা কমবে। তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ফারাক্কার প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, নৌ-যোগাযোগ, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবেলায় পদ্মা ব্যারাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এ ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
পাউবোর হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সাত হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের সুফল পেতে পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার ভারতীয় রুপি হঠাৎ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই দরবৃদ্ধি বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্য কমছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহের অভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে রুপির ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় ভারত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য প্রায় একই অবস্থানে থাকবে। প্রতি ডলারের দাম ৯৪ দশমিক ৯৪ থেকে ৯৪ দশমিক ৯৮ রুপির মধ্যে থাকতে পারে। গত সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় রুপির দর কমেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৫ দশমিক ২৮-এ নেমে যায়। পরে একটি বড় বিদেশি ব্যাংক বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করলে রুপির দর আবার বাড়তে শুরু করে।
বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের এক মুদ্রা ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, শুক্রবার রুপির এই ঘুরে দাঁড়ানো ছিল অপ্রত্যাশিত। এটি বাজারের চলমান প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। তিনি বলেন, শুক্রবারের দরবৃদ্ধির পর ধারণা করা হচ্ছে, আপাতত প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫ রুপির আশপাশে রুপির দর ওঠানামা করবে। তবে ওই বিদেশি ব্যাংক কেন শুক্রবার বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে, তা জানা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অন্য ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ওই মুদ্রা ব্যবসায়ীর মতে, শুক্রবার রুপির দর বাড়লেও এই উন্নতি ধরে রেখে আরো শক্তিশালী হওয়া কঠিন হবে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মুদ্রার দর কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব পড়েছে এসব মুদ্রায়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম অনেক কমেছে। অন্যদিকে দেশটির সরকারি বন্ডের দাম বেড়েছে। প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে বন্ডের বাজার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বাড়তে থাকা বিপুল ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই খাতে এত বেশি বিনিয়োগ করেও পর্যাপ্ত মুনাফা পাওয়া নাও যেতে পারে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ খাতের দিকে ঝুঁকছেন। এআই খাতে ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে শেয়ারবাজারে দরপতন ভারতীয় রুপির জন্য দুই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতার মধ্যে ভারতকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুক্রবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনার পরিমাণ বিক্রির চেয়ে বেশি রেখেছেন। অর্থাৎ ওই দিন তারা ভারতীয় শেয়ারবাজারে নিট ক্রেতা ছিলেন। এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ভবিষ্যৎ লেনদেনের বাজারে ডলারের নিট বিক্রির অবস্থান সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ২৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ২০ হাজার কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, একটি বিশেষ আমানত প্রকল্পের কারণে এই বৃদ্ধি হয়ে থাকতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাংকগুলো আরবিআইয়ের বিশেষ এফসিএনআর (বি) আমানত প্রকল্পের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করেছে। পরে মুদ্রা বিনিময় চুক্তির আওতায় সেই ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অদলবদল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর এই লেনদেনের কারণেই ভবিষ্যৎ লেনদেনের বাজারে আরবিআইয়ের ডলারের নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের মোবাইল অ্যাপে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে। এই অ্যাপটি সাধারণ জনগণকে ড্রোন হামলাসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান করে।
সোমবার, মন্ত্রণালয় জানায়, সাইবার হামলার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা অ্যাপটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা তথ্য ও সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেন জানিয়েছিল যে, তাদের আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা দেওয়ার অ্যাপটিও হ্যাক হতে পারে। অ্যাপটিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ভুয়া সতর্কবার্তা প্রকাশের পর এই সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এই দুই দেশের অ্যাপে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুদ্ধ শুরুর পর দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতির অবসান হয়েছে। তবে, ওই যুদ্ধবিরতি কেবল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া এই বিরল যুদ্ধবিরতির ফলে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘সতর্কতা! রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মোবাইল অ্যাপটি বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এর ফলে হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা তথ্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।’
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অ্যাপটির সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
এদিকে, রোববার গভীর রাতে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী এবং দেশটির অপতথ্য প্রতিরোধবিষয়ক কেন্দ্র পৃথকভাবে জানায়, ইউক্রেনের ‘এয়ার অ্যালার্ম’ অ্যাপটি সম্ভবত শত্রুপক্ষের হস্তক্ষেপ বা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাত এএফপিকে অ্যাপটি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস (স্প্রাভদি) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই সাইবার হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
তবে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত পৃথক একটি সতর্কবার্তা অ্যাপ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে শহরটির কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যালোইন উৎসবের ছুটির দিনগুলোতে দেশটির একাধিক শহরের বিনোদনকেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং ১৫ জন আহত হন। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আলাবামার বার্মিংহামে ঐতিহ্যবাহী ‘ম্যাজিক সিটি ক্লাসিক’ ফুটবল ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে গোলাগুলিতে একজন নিহত হন এবং আটজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং একজনকে আটক করেছে। এছাড়া, ডেলাওয়্যারে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে বন্দুক হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে, আরকানসাসের ফেয়েটভিলে ভোরে আরো ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন।
এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়া ও মিশিগানের ‘স্পিরিট হ্যালোইন’ স্টোরে পৃথক দুটি হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ডে এক গর্ভবতী নারী নিহত হন এবং মিশিগানে নিহত হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সবগুলো ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ