০৯:৫২ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ঐতিহাসিক’ এক পরিকল্পনা ঘোষণার মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) ভোর থেকে হামলা শুরু হয়। গাজার পশ্চিমাঞ্চলের আল-সুসি টাওয়ারে ঘটে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা। আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় ৩৩ বছর বয়সি আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান (২৯) এবং তাদের পাঁচ বছরের ছেলে আজ্জাম নিহত হন। এ তথ্য আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মাহমুদ আল-হামস (৩৮), তার স্ত্রী ফাতিমা (৩৭) এবং তাদের ছোট মেয়ে। নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলে ৬৮ বছর বয়সি কামু আবু মুয়াইলিক এবং তার ৫৯ বছর বয়সি স্ত্রী হুদা নিহত হন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় দুই ভাই প্রাণ হারান।
উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।
এছাড়া গাজা সিটির পশ্চিমের রেমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। একই শহরে একটি গাড়িতে হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণাগারে ইসরাইলি হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে সরকার
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানান, ওষুধের মজুত ধ্বংস করে চিকিৎসাসেবাকেই যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘ওষুধ ও রোগ—দুটোকেই যুদ্ধের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।‘ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দুটি ওষুধ সংরক্ষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন