০৪:৪৮ পি.এম
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক হিসাবে রয়েছেন, বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি এ সময় উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ ভূখণ্ডের মানুষের জন্য একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি (আইডেন্টিটি) তৈরি করে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: নিকাহ রেজিস্ট্রারদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সংবাদ সম্মেলনে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচকের বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ একটি চরম সংকটের মধ্যে ছিল, গোটা দেশের মানুষ তাদের নেতার কাছ থেকে যুদ্ধের ঘোষণার প্রত্যাশা করছিল- তখন সেটি যখন আসলো না, তখন এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে দেশের গ্রামের গ্রামে আগুন ধরিয়েছে, নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করেছে; সে কারণে পাকিস্তানি বর্বরতাকে কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণকারী একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানের অংশ হওয়ার এবং তাদের শোষণ-বঞ্চনা প্রচুর দেখেছি। একাত্তরের ভয়ংকর যুদ্ধ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে আমি খুব কাছ থেকে একজন সংগঠক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছি। সেই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে এক অনন্য ও ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।
আরও পড়ুন: বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফ: ব্যারিস্টার সারোয়ারকে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে তলব
বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সব সময়ই একটি উদার ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি (লিবারেল ডেমোক্রেসি) লালন করে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল সকলকে নিয়ে পথ চলার, বিভাজন সৃষ্টি করার নয়। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে এসে তিনি নতুন কোনো বিভক্তি না করে, সব রাজনৈতিক চিন্তার দলগুলোকে একত্রে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট এবং পরে বিএনপি গঠন করেছিলেন। রাজনীতির মূল বিষয় ছিল ‘রিকন্সিলিয়েশন’ অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই প্রথাই তিনিই চালুর করে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কাউকে শত্রু বানাতে চাননি, এটাই ছিল তার রাজনীতি। বরং সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠায় তিনি সফল হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের বাইরে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম।
আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগে যুবলীগ নেতা সোহেল গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন