০৪:৫০ পি.এম
বলিভিয়ায় টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার (২০ জুন) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জানান যে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি দেশের সব স্থানে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে, গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে গত মে মাসের প্রথম দিকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে দেশের প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল’ (সিওবি)।
আরও পড়ুন: জামায়াত ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে: পীর সাহেব চরমোনাই
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর, সরকার প্রধান শুক্রবার (১৯ জুন) শ্রমিক ইউনিয়ন সিওবি-র সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সাক্ষর করেন। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সরকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এরপর সিওবি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এই চুক্তিতে সকল খাতের শ্রমিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না।
সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপারে অঞ্চলের শ্রমিক গোষ্ঠী ও কোকা চাষিরা এই চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। তারা চুক্তি অমান্য করেই রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০টি স্থানে অবরোধ বজায় রয়েছে।
দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলতে থাকা এই আন্দোলনের কারণে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য, প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এখনো অবরোধ ধরে রেখেছে বা সহিংসতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাত্র সাত মাস আগে মধ্য-ডানপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ বলিভিয়ার ক্ষমতায় প্রবেশ করেন। তার এই জয় দেশের ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও শিক্ষকরা তার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রেসিডেন্টের দাবি, মাদক-সন্ত্রাসী ও আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের হাত রয়েছে এই বিক্ষোভের পেছনে। সূত্র: আল-আরাবিয়া, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন: দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন, প্রয়োজনে টিকিট দেব: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন