০৪:৫২ পি.এম
ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৮) ওরফে প্রান্ত নামে এক ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
রোববার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগের দিন শনিবার (২০ জুন) বিকালে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে তার বাড়ির সামনে থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।
নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি মৃত এসকেন্দার হায়দারের ছেলে। প্রান্ত ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আরও পড়ুন: মধুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ডিবি পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করেছে। অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, মাদকসহ আটকের পর হেফাজতে অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ব্রেইন স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৬টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সদস্য প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যান। তারা তাকে আটকের সময় মারধর করেন এবং পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন।
প্রান্তের মা খাদिजা আক্তার জানান, “আমার ছেলেকে আটকের সময় শরীর তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করেও কিছু উদ্ধার করা হয়নি। অথচ, পরে শুনলাম গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। আমার সুস্থ ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তার মৃত্যু হলো, এর সঠিক তদন্ত চাই।”
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
ডিবির ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রান্তকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রান্ত নাস্তা করেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেছেন, হাসপাতাল আনার পর সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা যায় প্রান্তের মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রান্তকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালকে ব্যবসা নয়, মানবসেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: এমপি শাহজাহান চৌধুরী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন