০১:৩২ পি.এম
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলইক পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন সাংবিধানিক সংশোধনী মেনে। ইতোমধ্যেই তিনি সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন এবং ফলে, স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব শেষ হবে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুলইককে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা।
গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অরবানের সরকার 16 বছর ক্ষমতায় থাকার পর পরাজিত হয় এবং তিসা পার্টি বিপুল বিজয়ের সাথে নতুন সরকার গঠন করছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জন নিহত
সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য সুলইকের হাতে পাঁচ দিনের সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি স্বাক্ষর না করলে দেশে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হতো এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালু হতো।
শনিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তিনি সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। তবে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে এক বিবৃতিতে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, সরকার আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছে।
সুলইক বলেন, এই সাংবিধানিক সংশোধনী একদিকে হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা ভাঙনের মুহূর্ত। তার দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ পদদলিত করা হয়েছে।
তিসা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুলইককে আগের সরকারের ‘পুতুল’ হিসেবে উল্লেখ করে তার পদত্যাগের দাবী জানাচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত একের পর এক সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সংশোধনীকে ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন এবং তিনি এর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানান।
এপ্রিলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর অরবানের দল ফিদেজ রাজনৈতিকভাবে একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। দলের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে থাকে এবং অরবান নিজেও নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের পর তিনি পার্লামেন্টে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি।
২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় থাকা ফিদেজ সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত করার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগের মুখে রয়েছে।
সোমবার পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার ফল ঘোষণা করা হলে তিসা পার্টির ১৪১ জন আইনপ্রণেতা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ডের ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, আহত ১৭
ভোটের পর, হাঙ্গেরির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি আন্দ্রাশ বাকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তে তিনি একমত।
তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর ছিল, কিন্তু এরপর ফিদেজ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
বাকা আরও বলেন, “এমন একটি সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও টিকে থাকতে পারে।”
আরও পড়ুন: ওমান উপসাগরে জাহাজে আগুন, ২২ নাবিক উদ্ধার করেছে আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন