ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফা আলোচনা সম্পন্ন, জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক


মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফা আলোচনা সম্পন্ন, জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক

মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। দুই পক্ষ জানিয়েছে, তিন দিনের এই আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠক আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি বাজার ধরে রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশ এই চুক্তিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।

গত রবিবার শুরু হওয়া আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শেষ হয়। আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশের ৮০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা (এসপিএস), বাণিজ্যে কারিগরি বাধা (টিবিটি) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই)। বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেছেন, "চুক্তিটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।"

মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "চুক্তি কার্যকর হলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।"

মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রাশিদী সাঈদ এবং তার প্রতিনিধিদলকে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানানো হয়। দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও ‘উইন-উইন’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে চুক্তির সুফল পাওয়া চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানো মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের খাল খনন উদ্যোগ: ত্রাণমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের মিত্রদের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বৃহস্পতিবার বিকেলে হতাহতের সংখ্যা জানান। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় দিনিপ্রো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি নিয়মিত লোকাল ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা প্রকাশিত ছবিতে প্ল্যাটফর্মে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। ছবিতে জানালার কাচ ভাঙা ও পুড়ে যাওয়া দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনও দেখা গেছে।

হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত মস্কো ও দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত নয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ হামলার মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উভয় দেশ জানিয়েছে, স্থানীয় যুদ্ধবিরতি তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, তিনি বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে ওলেশকির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

দিনিপ্রোতে রুশ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি ওলেশকিকে কেন্দ্র করে চলমান সীমিত যুদ্ধবিরতির চেয়ে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

বেসামরিক নাগরিক ও যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাবিতে ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে চতুর্থ আন্তর্জাতিক সবুজ স্থাপত্য সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


শাবিতে ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে চতুর্থ আন্তর্জাতিক সবুজ স্থাপত্য সম্মেলন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক সবুজ স্থাপত্য’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে শাবি প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যাপক ইফতেখার রহমান উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের গ্রিন আর্কিটেকচার সেল এবং শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগ যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে। সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো টেকসই স্থাপত্য ও আবাসস্থল উন্নয়নে উদ্ভাবনী ধারণার বিকাশ, গবেষণা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব (কো-চেয়ার) করবেন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান জোয়ারদার। শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান সম্মেলনের কো-চেয়ার (যুগ্ম-প্রধান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারের স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড সিটিজের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. জুলিও ভারদিনি। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম হচ্ছে ‘জলবায়ু নগরবাদ: তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ এবং শহুরে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা’। এছাড়া, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক ও ২০২২ সালের আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচারের বিজয়ী স্থপতি খন্দকার হাসিবুল কবির ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বসতি বা আবাসন ডিজাইন ও গড়ে তোলা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে ‘টেকসই আবাসন উন্নয়নে বৈশ্বিক সমন্বয়’ শীর্ষক একটি গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এই সেমিনারে টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মানচিত্রায়ন, জলবায়ু-সহনশীল বসতি, নগরায়ণ এবং নির্মিত পরিবেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

অধ্যাপক ইফতেখার রহমান জানান, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা ও গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে। অন্যদিকে, কারিগরি অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে শিড়্গাভবন ‘ই’-এর চতুর্থ তলায় অবস্থিত আর্কিটেকচার বিভাগের সেমিনার কক্ষে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. রবিউল ইসলাম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা মেহের সুলতানা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।

অধ্যাপক ইফতেখার রহমান আরও জানান, সম্মেলনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-বিল্ডিং প্রাঙ্গণে একটি স্থাপত্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এই প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন স্থাপত্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নকশা ও স্থাপত্যকর্ম প্রদর্শিত হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও টেকসই স্থাপত্যবিষয়ক ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনের প্লাটিনাম স্পনসর হিসেবে রয়েছে মিরপুর সিরামিকস ও খাদিম সিরামিকস। গোল্ড স্পনসর হিসেবে রয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড। এছাড়া সিলভার স্পনসর হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, আর্চজিন ও ভলিউমেট্রিক ডিজাইনাস।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. শামসুল আরেফিন, সহযোগী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক অভিজিৎ মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক তানভীর হাসান, প্রভাষক ফেলদৌস রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ লড়াই শেষে সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মসজিদের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


দীর্ঘ লড়াই শেষে সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মসজিদের অনুমোদন

বছরের পর বছর ধরে চলমান প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় কাউন্সিলের আপত্তি এবং আদালতের শুনানি শেষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত একটি ইসলামিক সেন্টার মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করেছে। ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল কর্তৃক অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারকে (এএমডব্লিউসি) মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পাওয়া এই অনুমোদনকে সংগঠনটির সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মিন্টোর ১৩-১৭ ইগলভিউ রোডে অবস্থিত কেন্দ্রটি বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের কাছে পরিচিত। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় রয়েছে। তবে, ভবনটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

২০১৮ সালে ভবনটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হয় কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। পরবর্তীতে সেখানে নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন নিয়ে আপত্তি ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ যানবাহনের চাপ, পার্কিং এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর প্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল কেন্দ্রটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিউ সাউথ ওয়েলসের ল্যান্ড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট কোর্টে আপিল করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দেয়, যা কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বাড়িয়ে দেয়।

তবে সংশ্লিষ্টরা হাল ছাড়েননি। স্থানীয় ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কাউন্সিলের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা বিভাগের বিবেচনায় যায়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিল প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের মার্চে পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের অনুমোদন আসে। একই বছরের মে ও জুনে প্রস্তাবটি নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে আগস্টে ক্যাম্পবেলটাউন কাউন্সিলের সভায় জমির ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব সমর্থন পায়। তবে, মসজিদ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক উন্নয়ন আবেদন বা ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। এবার সেই অনুমোদনও মিলেছে।

২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি ড. আনিসুল আফসার এবং সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর খান এই অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য সংগঠনের সদস্য, নির্বাহী কমিটি, বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটি, ক্যাম্পবেলটাউন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি তাঁরা ধন্যবাদ জানান।

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার একটি নিবন্ধিত অলাভজনক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে এটি ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের একটি পরিচিত কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন অনুমোদনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আইনি লড়াইয়ের পর পাওয়া এই অনুমোদন কেবল একটি ভবন ব্যবহারের অনুমতি নয়, বরং সিডনির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনজীবীর কাছে ইয়াবা, স্ত্রীর কাছে হেরোইন উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


আইনজীবীর কাছে ইয়াবা, স্ত্রীর কাছে হেরোইন উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদরে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা ও হেরোইনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে ওয়াপদাপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ওয়াপদাপাড়া (খলিলগঞ্জ) এলাকার বাসিন্দা এবং কুড়িগ্রাম আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মোছা. ডলি (৩০) এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যাপারীটারী এলাকার মো. শাহেদ মাহমুদ শাকিল (৩০)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডলির কাছ থেকে ৫১টি হেরোইনের পুরিয়া এবং শাহেদ মাহমুদ শাকিলের কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

মোট উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা ১৯৫ পিস, যার মোট ওজন ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম। অপরদিকে, পলিথিনসহ হেরোইনের মোট ওজন চার গ্রাম। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মো. শাহ-নেওয়াজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%