শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
গত অক্টোবরের শুরুতে, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে রেখেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বাহিনী, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই পরিস্থিতিতে, শহরের প্রায় ১০ লাখ মানুষ খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনের বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মী বারাআ শিবান সম্প্রতি শহরটি পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার, মিডেল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিবানের মতে, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হুতিদের এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যে সংঘাতকে শুধুমাত্র দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। এতে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতকে হুতি এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যে কেবল পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে, অবরুদ্ধ শহরগুলোর সাধারণ মানুষের দুর্দশা উপেক্ষিত হয়ে যায়। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য সাধারণ মানুষকেই দিতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর শহরের সিংপাড়া নিবাসী কৌশিক সাহা জিতু হত্যার ঘটনা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহা। এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি ননী গোপাল বিশ্বাস ও সুকেশ কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন এবং চন্দ্রা দেবনাথ।
এ সময় পৌর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, কৌশিক সাহা জিতুর অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে ফরিদপুরজুড়ে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, সরকার তৃণমূলের অসহায় ও দুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসা সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ ভবনে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি জটিল রোগে আক্রান্ত আরও কেউ চিকিৎসা সহায়তার বাইরে থাকে, তাহলে তারা আবেদন করলে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
টুকু বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি জানান, জনগণের কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কাজ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু যোগ করেন, তৃণমূলের মানুষের কাছে সহযোগিতা পৌঁছানোর জন্য সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি আরও জানান, উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রী অধিক পরিমাণে অনুদান দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এসব সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে। সরকার সব সময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর 'পরিদর্শন কক্ষ' উদ্বোধন করা হয়, যা জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত এবং সরকারি কার্যক্রমকে আরও সহজলভ্য করতে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৫৫টি। এই তালিকায় ১৩ হাজার ৮০৭টি প্রকাশনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
স্কোপাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা এই মোট প্রকাশনার প্রায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা ১৮ হাজার ২৫৫টি। এর মানে, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বুয়েটের তুলনায় ঢাবির প্রকাশনা ৪ হাজার ৪৪৮টি বেশি।
গবেষণা প্রকাশনার এই পরিসংখ্যান দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালী অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত ও প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে এই অর্জন আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই অর্জন সম্পর্কে বলেন, "গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও অবদান রয়েছে। স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকা শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিরলস গবেষণারই প্রতিফলন।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমরা গবেষণার গুণগত মান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী জ্ঞানচর্চার পরিসর আরও সম্প্রসারণ করতে চাই। এই লক্ষ্যে গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার দৃশ্যমানতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।"
উপাচার্য এই অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, স্কোপাস একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা-তথ্যভান্ডার ও অ্যাবস্ট্রাক্ট-সাইটেশন ডেটাবেস। এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, সম্মেলন ও অন্যান্য গবেষণা প্রকাশনার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। গবেষণার প্রকাশনা, উদ্ধৃতি এবং গবেষণার প্রভাব মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষক এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে থাকেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাইজেরিয়ায় আটক অবস্থায় ৩৭ জন ক্ষুদ্র খনি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার জন্যও আহ্বান করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণই তাদের স্বজন হারানোর কষ্ট দূর করতে সক্ষম হবে না।
মঙ্গলবার, দেশটির প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গত মাসে নাইজার রাজ্যে নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটে। তাদের অবৈধভাবে খনির কাজ করার সন্দেহে আটক করা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটককেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, প্রচণ্ড গরম, পানির অভাব এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নাইজেরিয়া সরকার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে যাতে দ্রুত বিচার শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ কবে পাবেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো উত্তর দেননি। নিহতদের মধ্যে কিশোরও ছিল, এবং তাদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আটককেন্দ্রের পরিবেশ এবং বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা বন্দীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের একজনের মা জয়নব সালিহু বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের সন্তানেরা বেঁচে থাকুক এবং আমাদের কাছে ফিরে আসুক।’ তিনি জানান, তার ছেলের মৃত্যুর পর তার স্বামীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং পরে স্বামীও মারা যান। তবে স্বামীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
জয়নব সালিহু আরও বলেন, ‘তারা আমাদের যত টাকাই দিক না কেন, তাতে আমাদের সন্তানদের আর ফিরে পাব না।’ আটক অবস্থায় মারা যাওয়া ২৫ বছর বয়সী সুলাইমানের বাবা দান্তালা তানকোও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের কবরের পাশে দোয়া করার পর তিনি বলেন, ‘এখন সে আর নেই। এটা আমার জন্য ভীষণ কষ্টের। আমি জানি, সে আর কখনো ফিরে আসবে না।’
আটককেন্দ্র থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী দাউদা শেহু বলেছেন, ‘যেসব কর্মকর্তা মানুষের জীবনের প্রতি এমন অবহেলা দেখান, তাদের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’
২৩ বছর বয়সী আবদুসসালাম ইয়াকুব অভিযোগ করেছেন, সরকার ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, খনির কাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম এবং সোনা জব্দ করা হয়েছিল। এসব জিনিস ফেরত পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
ইয়াকুব রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। আমরা বিচার চাই, প্রতিশ্রুত সহায়তা চাই এবং আমাদের জিনিসপত্র ফেরত চাই। তাহলে আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ