শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪০ পি.এম
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : স্পিনার নাইম হাসান বাংলাদেশের দশম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেট শিকার করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০ দশমিক ৫ ওভার বল করে ৩৩ রানে ৪ উইকেট দখল করেন নাইম। তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম ম্যাচে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ডেলিভারিতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে নাইম। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন আরেক স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের পূর্ববর্তী রেকর্ড।
নাইমের ৫০ উইকেট শিকার করতে প্রয়োজন হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬টি বল ডেলিভারি। এতদিন মিরাজ ১৩ টেস্টে ৩ হাজার ৫১২ বল ডেলিভারিতে ৫০ উইকেট নিয়ে রেকর্ডের মালিক ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসারের অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে বাবা-মা তাদের একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল যে, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো রংপুরের পীরগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী তরুণ মনিরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।
একমাত্র সন্তানের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে চারপাশে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত মনিরুল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী (চন্দ্রকোনা) গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মনিরুল। তার পাঠানো সামান্য টাকায় কোনোমতে চলছিল চার সদস্যের সংসার। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর হঠাৎ করে মালয়েশিয়া থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনরা।
কিভাবে এবং কী কারণে তার মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি পরিবার। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, মনিরুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে বিষয়টি যেন তদন্ত করা হয়।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা ইয়াসিন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারটা একটু সাজাতে। আজ সে ফিরল লাশ হয়ে। এখন আমাদের কী হবে?’
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে মুহ্যমান মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমার ছেলে থাকত, তারা ফোন করে জানায়—রাতে ঘুমিয়েছিল, সকালে আর ওঠেনি। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু কী কারণে আমার বুক খালি হলো, তা আমরা জানি না। এখন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে কে?’
নিহতের চাচা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ভাতিজাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। গত ১৫ অক্টোবর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’
শুক্রবার সকালে মনিরুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রতিভাধর এক তরুণের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনেরা এখন একটাই দাবি করছেন—সরকারের সংশ্লিষ্ট মাধ্যম দিয়ে যেন মনিরুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার যোশীমঠের নিকটবর্তী এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। হেলিকপ্টারটি বদরীনাথ থেকে দেরাদুনের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্লি এক্স-রে কোম্পানির পরিচালিত হেলিকপ্টারটি হাতি পর্বতের কাছে নিখোঁজ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ পরে হেলিকপ্টারটির সন্ধানে আরো দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে।
সংবাদমাধ্যম এএনআইকে যোশীমঠ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মনোহর কানিয়াল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২১ মিনিটে যোশীমঠের মহকুমা প্রশাসনের কাছ থেকে চায়ি গ্রামের ওপরের এলাকায় হেলিকপ্টারটির জরুরি অবতরণ বা বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ইউকাডা) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বদরীনাথ থেকে সাহাস্ত্রধারাগামী ট্রান্স ভারত হেলিকপ্টারটির অবস্থান চায়ি গ্রামের ওপরের সেনা ক্যাম্পের কাছে শনাক্ত করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি যোশীমঠের নিকটবর্তী চায়ি গ্রামের পাশে বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধামি উল্লেখ করেছেন, তিনি নিজে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিজ ঘর থেকে মো. আয়াস (২২) নামের এক সদস্যকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সদস্যরা। তিনি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এর সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় ছৈয়দ মোহাম্মদ (২৪) নামের অপর এক আরএসও সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, দিবাগত রাত ১২ টার দিকে আরসা সদস্যরা আয়াস ও ছৈয়দ মোহাম্মদকে হেফাজতে নিয়ে মারধর করে। মারধরের ফলে আয়াস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ছৈয়দ মোহাম্মদ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ক্যাম্প সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আরসা সদস্য মো. সলিম, নজিম উল্লাহ, ফয়সাল, আকরাম, হানিফসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ