০১:১৩ এম
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকে আলো মাত্রা দিতে একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
প্রতিবাদস্থলটিতে উত্তাল স্লোগান ও বিশাল জনস্রোতের পাশাপাশি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আহতদের চিকিৎসা প্রদান, খাবার ও পানি বিতরণ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণসহ নানা কাজ নীরবে পরিচালনা করছেন।
সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন লার্নিংয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হর্ষ। তিনি সিজেপির 'সংসদ চলো' পদযাত্রায় অংশগ্রহণের পর হঠাৎ করে এক অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলেন এবং এরপর খাবার বিতরণ করতে শুরু করেন। হর্ষ তার নতুন অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, এখন অপরিচিতদের সাথে কথা বলায় আর কোনো দ্বিধা নেই।
আরও পড়ুন: মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে এল-সায়েদ, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ
এছাড়াও, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়েও অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আন্দোলনের সমর্থনে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছেন ৫ম বর্ষের এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসক। চিকিৎসক এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন চিকিৎসকের সহায়তায় আন্দোলনকারীদের সেবা দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, গুরগাঁওয়ের ৫১ বছর বয়সী গৃহিনী অর্পিতা প্রকাশ স্বেচ্ছায় আন্দোলনস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি হাতে ময়লার ব্যাগ নিয়ে প্লাস্টিকের বোতল এবং খাবারের প্যাকেট সংগ্রহ করছেন। অর্পিতা জানাচ্ছেন, প্রধান বিচারপতির বিতর্কিত মন্তব্য তাকে আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য উদ্দীপ্ত করেছে।
মেহনতি আন্দোলনের পেছনে সঠিক ব্যবস্থাপনা রাখতে সাহায্য করছেন অভিজিৎ ডিপকের বন্ধু যোগেশ ইঙ্গালে। তিনি মাইক, সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত, প্ল্যাকার্ড তৈরি, অতিথি আপ্যায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, টানা এক মাস ধরে তাঁর দিনের মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমায় কিংবা রাত না ঘুমিয়ে আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে যন্তর মন্তরের আন্দোলনটি প্রাণবন্ত এবং গতিশীল হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
’ ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮ গোল করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ের পথে সহযোগিতা করেছেন। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে, স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে মেসি অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে পরিশেষে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা হেরে যায়। ম্যাচ শেষে আবেগঘন মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার সেই মুহূর্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাঝেই গত ৩০ জুন মেসি ও আন্তোনেল্লা তাদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন। ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন সন্তান- থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। বিশ্বকাপজুড়েই তিন সন্তানকে নিয়ে গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে মেসিকে সমর্থন করেছেন আন্তোনেলা। মেসি ও আন্তোনেল্লার পরিচয় শৈশবে ঘটে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। আন্তোনেল্লার চাচাতো ভাই এবং মেসির বন্ধু লুকাস স্কালিয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়তে বার্সেলোনায় চলে যাওয়ায় তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০০৫ সালে, আন্তোনেল্লার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী উরসুলা নটজ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে, সমবেদনা জানাতে রোজারিওতে থাকা আন্তোনেল্লার পাশে দাঁড়ান মেসি। সেই সময় থেকেই তাদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। কয়েক বছর পর তারা প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা জানান এবং পরে একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। যদিও বিশ্বকাপের ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে, তবুও আন্তোনেল্লার বার্তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মাঠের সাফল্য এবং ব্যর্থতার বাইরে মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার পরিবার। কোটি সমর্থকের মতোই তার স্ত্রীও বিশ্বাস করেন, একটি ম্যাচ বা একটি ফাইনালের ফলাফল লিওনেল মেসির কিংবদন্তি মর্যাদাকে একটুও কমাতে পারে না। তার কাছে মেসি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন- সবসময়ই সেরা।