০৮:১৭ এম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর খলিলুর রহমান এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রথম বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্দেশ্যে ছয়টি কর্মস্তম্ভভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা করেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘে উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তার প্রতি বিশ্বাস ও সমর্থন প্রদানের কারণেই তিনি আজকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
তিনি সেই দায়িত্বকে বিনয় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে নিয়েছেন এমনটি উল্লেখ করেন। খলিলুর রহমান এ সময়ে তাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ দেন।
পাশাপাশি, নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে সহযোগিতা করায় সংক্রান্ত দেশের জনগণ, তার টিম এবং বিশ্বটির বিভিন্ন প্রান্তের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে বলেন, তিনি একটি গঠনমূলক ও দৃষ্টান্তমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বক্তব্যে, নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ তার নবম দশকে প্রবেশ করতে যাচ্ছে একটি সময়, যখন সংস্থাটির প্রতি বৈশ্বিক আস্থা বিভিন্ন দিক থেকে পরীক্ষার মুখোমুখি। বর্তমানে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে, উন্নয়ন অর্জনগুলো বিপদের সম্মুখীন এবং অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: শামা ওবায়েদ
একই সঙ্গে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পশ্চাদপসরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জাতিসংঘের আর্থিক সংকট সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে নিজের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান থেকে তিনি অনুপ্রেরণা নেবেন। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২
তিনি বলেন, সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা জোরদার করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা মুসলমানদের অগ্রাধিকারে রাখতে একটি সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে তিনি কাজ করবেন। পাশাপাশি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও নিজের গুরুত্বারোপ করেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি এবং অর্জনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়নের ঘাটতি দূর করা, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মূদ্রা কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচি ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি বিশেষ নজর দেবেন।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্র থেমে থাকবে না, তবুও এগিয়ে যেতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন