০৬:৩৯ পি.এম
ভারত বা অন্য দেশের সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন করতে দেওয়া হবে না, এমন একটি সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকেই দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা অবৈধভাবে একজনকেও দেশে পুশ ইন হতে দিইনি। আমাদের পক্ষ থেকে বর্ডার গার্ড ও জনগণের সহায়তায় আমরা এখনো পর্যন্ত সফলভাবে তা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।’
আরও পড়ুন: মঞ্জু: ৫ আগস্টও এনে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছিল, তবে তার সংখ্যা খুব বেশি নয় এবং এসব অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পুশ ইন করতে দিইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। তবে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব রয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। মিয়ানমার সরকারের বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধাবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের কারণে বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। এসব সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে মাদক চোরাচালান বাড়ছে এবং অনেক সময় ওপার থেকে আসা গোলাগুলির ফলে আমাদের নাগরিকেরা মারা যাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন: পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: এমপি রানু
সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের সাথে সম্পর্কিত উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাইন দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিজিবিকে ইতিমধ্যে মাইন শনাক্তকরণের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবির সদস্যরা এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করে চলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিজিবির লোকবল বৃদ্ধি এবং যানবাহন, সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কিছু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এবং তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির বড় ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রাথমিকভাবে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেবে। আইনে ডিএনসির নিজস্ব ডগ স্কোয়াড তৈরির সুযোগ থাকলেও, সেটি তৈরি করতে সময় লাগবে বলে আপাতত বিজিবির সহায়তা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, বিজিবির সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। সীমান্ত পাহারার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি বিজিবির এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: সবার আগে বাংলাদেশ, দিল্লি বা পিন্ডি নয়: প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন