ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

একই দিনে দুইবার সড়ক উদ্বোধন, সকালে জামায়াত এমপি, বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক


একই দিনে দুইবার সড়ক উদ্বোধন, সকালে জামায়াত এমপি, বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী একটি সড়ক একই দিনে দুইবার উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ আবারও সড়কটি উদ্বোধন করেন। এই ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এমন পাল্টাপাল্টি উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, কোনোটিই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়।

সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ৫৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের কাজ এলজিইডি শুরু করেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় দিন আগে নির্মাণকাজ শুরু হলেও রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সড়কটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও নজরদারি সহজ হবে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে সড়কটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। একই দিন বিকেলে সড়কটি পুনরায় উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ।

সকাল ও বিকেলের দুই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যকে একে অপরের সমালোচনা করতে দেখা যায়। সকালে এমপি বুলবুলের উদ্বোধনের সময় এলজিইডির নামসংবলিত ব্যানার থাকলেও বিকেলে হারুনুর রশীদের উদ্বোধনের সময় তা ছিল না। সাবেক এমপি ফিতা কেটে সড়কটির উদ্বোধন করেন। তবে দুই অনুষ্ঠানেই এলজিইডির কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উদ্বোধন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আপনি (হারুনুর রশীদ) যদি চান চাঁপাইনবাবগঞ্জে যত ভালো কাজ হবে, এর উদ্বোধনে আমার সাথে থাকতে চান, ওয়েলকাম, আপনি থাকবেন আমার সাথে। কারণ আমি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে জেলাকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে চাই। সুতরাং, আমি যেই কাজ উদ্বোধন করব, আপনি আমার সাথে থাকেন কোনো অসুবিধা নাই। আপনি জেলা পরিষদের প্রশাসক, সেই বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। আপনার যে বরাদ্দ আসবে, কী বাজেট আসছে আপনি কোন খাতে খরচ করছেন এবং করবেন, সেটি জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে খোঁজ-খবর নেয়ার দায়িত্ব এমপির আছে। এটি শুধু আমার একার নয়, সারা বাংলাদেশের সকল এমপির আছে। সুতরাং আপনার তদারকি করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার কোনো কাজের দিকে তাঁকানো আপনার দায়িত্ব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে যা কাজ হবে, তার সব কাজের দায়িত্ব হচ্ছে এমপির। যেটা এমপির কাজ, এমপিকে করতে দিবেন। ৬২ হাজার ৬১৯ ভোট বেশি পেয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি, এতগুলো মানুষ আমাকে আপনার থেকে বেশি সমর্থন দিয়েছে। আপনার ভোট আপনি কিভাবে পেয়েছেন, সেটি জনগণ জানে। জনগণের কোনো অধিকার নিয়ে আপনি (সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ) হউন আর যেই হউন ছিনিমিনি খেললে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করব। এখানে এলজিইডির কাজ হবে, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। আমার কাজ, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। এই এখতিয়ার আপনাকে কে দিয়েছে, জনগণ দেয়নি।’

আরও পড়ুন: মন্ত্রিসভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

একই সড়ক বারবার উদ্বোধনের কারণ জানতে চাইলে সাবেক এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এনিয়ে এমপি বুলবুলকে প্রশ্ন করুন। তিনিই বলতে পারবেন। আমি নিজে এসব রাস্তা-ঘাটের বরাদ্দ নিয়ে আসছি, আর তিনি (এমপি বুলবুল) গিয়ে উদ্বোধন করছে। বরাদ্দ-প্রকল্প আমি নিয়ে আসছি, আর ব্যানার টাঙিয়ে গিয়ে উদ্বোধন বললেই হলো? এত ছ্যাচড়ামি করার কোন দরকার নাই। একজন এমপির প্রটোকল তাকে বুঝতে হবে। বরাদ্দ নিয়ে আসার সুবাদে আমি সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে পরিদর্শন বা উদ্বোধন করতেই পারি।’

এর আগে উদ্বোধন-পরবর্তী আলোচনা সভায় হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এমপিকে (নুরুল ইসলাম বুলবুল) বলব, বহু কাঁচা রাস্তা আছে ভাই, তুমি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসে কাজ করো, তোমার বরাদ্দ আনার ক্ষমতা আমরা দেখতে চাই। মানুষ চাই, এখানে আরও কাজ হোক, উন্নয়ন হোক, কোন অসুবিধা নাই। কথাবার্তা বলার সময় খুব সাবধানে বলবা, উল্টাপাল্টা কথা বললে, জনগণ কিন্তু সেব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এরকম ছ্যাচড়া এমপি আমি দেখিনি। এত ছ্যাচড়া এমপি বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। সড়কটি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ ছিল, বাস্তবায়নেও আমার অনেক সহযোগিতা ছিল।

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক এমপি উদ্বোধনের দুই সময়ই তিনি উপস্থিত ছিলেন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। এটি হলে ফলক বসানো হতো। কিন্তু তা করা হয়নি। বর্তমান ও সাবেক এমপি দুজনই তদারকির কাজে গিয়েছিলেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন বা তদারকিতে গেলে তাঁরা সেখানে উপস্থিত থাকেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক দিনের শাটডাউন শেষে মঙ্গলবার ক্লাসে ফিরছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ এম


চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক দিনের শাটডাউন শেষে মঙ্গলবার ক্লাসে ফিরছেন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা সোমবার এক দিনের শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা এই কর্মসূচি পালন করেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। মঙ্গলবার থেকে তারা আবার নিয়মিত ক্লাসে ফিরবেন।

জানা গেছে, গত রোববার উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ার কারণে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে এক দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান এবং এক দিনের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রায় এক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে গত রোববার সব বিভাগে একযোগে ক্লাস শুরু হয়েছিল।

চুয়েটে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা আন্দোলন চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পরদিন থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। এর মধ্যে ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে গিয়ে নতুন উপাচার্য ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হন। প্রশাসনের সহায়তায় সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে।

পরে ২৮ অক্টোবর কয়েকটি বিভাগে সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হয়। এরপর গত রোববার থেকে সব বিভাগে একযোগে শিক্ষা কার্যক্রম ফের চালু হয়। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি এবং নতুন উপাচার্যের প্রতি অসহযোগিতার অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সরে আসেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের ন্যায্য দাবির আড়ালে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ এম


শ্রমিকের ন্যায্য দাবির আড়ালে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টা?

॥ জি এম রাজিব হোসেন ॥

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের ফলে যে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকে শুধুমাত্র একটি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে, সেই দাবিকে পুঁজি করে কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও জনজীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিনা, সেটিও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। কারণ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের কর্মকাণ্ড এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের কয়েক মিলিয়ন শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ। অথচ, এই শিল্পের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ বিবেচনায় নিলে মজুরি বৃদ্ধির দাবি যে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একজন শ্রমিকের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র মালিকপক্ষের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্র্নিধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সুপারিশ তৈরি করা। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। তবে, বোর্ড গঠনই শেষ কথা নয়; শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণই হবে এর প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

এখানেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, যখন সরকার শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং মালিকপক্ষও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতির কথা জানিয়েছে, তখন আন্দোলন কেন ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়াল? দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ ও কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের নামে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন, সড়ক অবরোধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

১ নভেম্বর মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। মেট্রোরেল স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ রাখতে হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। একটি শিল্পের শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যখন হাজারো নিরপরাধ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন, তখন সেই আন্দোলনের কৌশল ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খানের বক্তব্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয় পোশাকশ্রমিক নন; বরং বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে আন্দোলনের আড়ালে নাশকতায় অংশ নিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছেন।

এই অভিযোগগুলো সত্য হলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি শ্রমিকদের প্রকৃত অসন্তোষকে ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাতে একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, অন্যদিকে দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে। তবে তদন্তের আগেই সব আন্দোলনকারীকে রাজনৈতিক কর্মী কিংবা নাশকতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়। প্রকৃত শ্রমিকদের সঙ্গে বহিরাগত উসকানিদাতাদের পার্থক্য শনাক্ত করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় দায়িত্ব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। এসব আন্দোলনের অনেকগুলোর পেছনে ছিল বাস্তব সমস্যা ও অধিকার আদায়ের আকাঙ্ক্ষা। তবে সেইসব আন্দোলনেও আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এই শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম ও রপ্তানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার চাপ গিয়ে পড়বে শ্রমিকদের ওপরই। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হলে শ্রমিকের আয় কমবে, কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং শ্রমিকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি শিল্পের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।

এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব দ্বিমুখী। একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে মজুরি বোর্ডকে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, খাদ্য ও চিকিৎসার খরচ বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি একটি অর্থনৈতিক ও মানবিক দাবি; এটি কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এই দাবিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে, তাহলে সরকার কঠোর হবে এটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠাও অপরিহার্য। এই দুইয়ের মধ্যে সংঘাত তৈরি না করে সমন্বয় ঘটানোই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। মিরপুরের ঘটনাকে তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে নয়, শ্রমিক আন্দোলনের পবিত্রতা, রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে। শ্রমিকের হাতে ন্যায্য মজুরি পৌঁছাতে হবে, আর শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে যারা সহিংসতা ও নাশকতা চালাবে, তাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে।

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, কিন্তু সেই অধিকারের আড়ালে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা যেন সফল না হয়।

লেখক : প্রধান প্রতিবেদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল ডিসেম্বরেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ এম


এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল ডিসেম্বরেই

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার এই তথ্যটি জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের জন্য ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি খসড়া রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী। আর দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। এ ছাড়া মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩।

যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের সনদে কী উল্লেখ থাকবে- এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এসব পরীক্ষার্থীর ফলাফল নতুন করে প্রকাশ করা হবে। আগের পরীক্ষায় যেসব বিষয়ে তারা উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব বিষয়ের ফল বহাল থাকবে। নতুন পরীক্ষায় অর্জিত ফল আগের ফলের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এক বা দুই বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে- এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, ৪ নভেম্বর কর্মপরিকল্পনাটি প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ নভেম্বর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ এম


রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার মেশিনের বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হয়েছেন, এমন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনায় একজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাড়াগাঁও এলাকায় সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে নাইমুল হাসান নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি কারখানার যান্ত্রিক বিভাগের ফায়ার সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে তিনি গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বাকি তিনজনের পরিচয় এবং শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম চারজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে অমিল দেখা দিয়েছে। সিম গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাতে কারখানার বয়লার সেকশনের পাশে থাকা ডায়ার কম্প্রেসার মেশিনে বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%