ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত


মালয়েশিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের তেলুক ইনতান-বিদোর সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় একটি লরির ধাক্কায় এক বাংলাদেশি মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

হিলির পেরাক জেলা পুলিশ প্রধান সহকারী কমিশনার চুয়া কোক লিয়ান জানিয়েছেন, সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ শাখা। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, লরি এবং মোটরসাইকেল উভয়ই বিদোর থেকে তেলুক ইনতানের দিকে যাচ্ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি মোড় ঘুরতে গিয়ে বাংলাদেশের দুই নাগরিককে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় স্থানীয় এক মালয়েশীয় চালিত লরি। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার সাথে থাকা অপর বাংলাদেশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। লরি চালক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির পিছনে ভারত জড়িত: আবু হানিফ

তদন্তে জানা গেছে, নিহত মোটরসাইকেল চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং গাড়িটির রোড ট্যাক্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুরো বিষয়টি সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪১ (১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে এবং চালকের রক্তের নমুনা টক্সিকোলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি পলাতক আরোহীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকটস্থ থানায় বা তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে লাভবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে লাভবান

বিএম নূর আলম

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবান, পোশাক এবং ফার্নিচার সামগ্রী তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তারা বেকারি ও প্রেসে খাতা তৈরির কাজ করেও অর্থ উপার্জন করছেন।

কারাগারের বন্দিরা সেলাই মেশিন ব্যবহার করে কয়েদিদের পোশাক তৈরি করছেন। এছাড়া, তারা ফার্নিচার এবং কারাগারে ব্যবহৃত রেজিস্টার খাতা তৈরির কাজের পাশাপাশি বেকারিতেও কাজ করছেন। এসব পণ্য বিক্রি করে যে লাভ হচ্ছে, তার অর্ধেক বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে। উপার্জিত অর্থের একটি অংশ নিজেদের প্রয়োজনে রাখতে এবং পরিবারের কাছে পাঠাতে পারছেন বন্দিরা।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবান, পোশাক, ফার্নিচার সামগ্রী তৈরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, তারা কারাগারে কাজের মধ্যদিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। পর্যায়ক্রমে সব কারাগারে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এসব সাবান বিভিন্ন কারাগারের বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করার পর বাজারেও বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরেই চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক অটো সাবান উৎপাদন কারখানা। এই উদ্যোগের ফলে বন্দিরা যেমন আধুনিক শিল্পকারখানায় কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তেমনি পাচ্ছেন নিয়মিত পারিশ্রমিকও। ফলে কারামুক্তির পর তাদের কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বাসসকে বলেন, সরকার কারাগারকে শুধু বন্দি রাখার স্থান হিসেবে নয়, বরং প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৬ জুলাই কারাগারে সাবান তৈরির কাজ উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এখানে তিন ধরনের সাবান তৈরি হচ্ছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার সাবান তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি সাবানের দাম ৫০ টাকা।

কারাগারে সাবান কারখানায় বন্দিরা কয়েকটি ধাপে কাজ করছেন। কাঁচামাল ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো, থ্রি-রোলার মেশিনে সাবানের মিশ্রণ প্রক্রিয়াজাত করা, প্লোডার মেশিনে সাবানের নির্দিষ্ট আকৃতি তৈরি করা, সাবানে লোগো ও ছাপ দেওয়া এবং মোড়কজাত ও প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়।

গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মো. আরিফুর রহমান বাসসকে জানান, এখানে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৫ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে ১৪৯ জন কারাগারের উৎপাদন শাখায় কাজ করছেন। কারাজীবনের অবসর সময়কে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে বন্দিদের কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একজন বন্দি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তারা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারছেন, আরেকটি অংশ পরিবারের কাছে পাঠানোর সুযোগও পাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দিদের জন্য প্রায় ৯০ হাজার পিস এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ হাজার পিস, অর্থাৎ মোট ১ লাখ পিস সাবানের চাহিদা রয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, নিজস্ব কারখানায় উৎপাদনের ফলে বাইরে থেকে সাবান কেনার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের পর এ সাবান বাণিজ্যিকভাবে বাজারেও বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কারাগারের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও কারাগারভিত্তিক শিল্পায়ন বন্দিদের পুনর্বাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


সরাইলে ৬ শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশ অভিভাবকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষকসংকটের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে ১০টি পদ শূন্য থাকায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ দায়িত্বরতরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অভিভাবকেরা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ছাত্রদের জন্য একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩.৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণের পর থেকেই স্কুলটিতে শিক্ষকসংকটের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র আটজন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণে দুজন থাকায় পাঠদান কার্যক্রমের পুরো চাপ পড়েছে মাত্র ছয়জন শিক্ষকের ওপর।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েও সংকট দূর না হওয়ায় তিনি হতাশ। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ৫২৯ জন। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকসংকট কাটাতে দুজন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ১০টি শ্রেণির শাখায় পাঠদান কার্যক্রম বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে শাখা সংকুচিত করে মূল শাখায় শিক্ষার্থীদের এনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নেই বললেই চলে। নবম ও দশম শ্রেণির অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস (A+) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন; অন্যদিকে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্লাস পেয়েছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষকসংকট চললেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার মূল বিষয়সহ বাংলা, ইংরেজি ও ধর্মের মতো আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষকও নেই। তারা সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতেও সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সার্ধশতবর্ষ পূর্তি উৎসবের নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের এই শিক্ষকসংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বোদ্ধাজনেরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষক শূন্যতার বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন এবং শিক্ষক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

নবযোগদানকৃত সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, সরকারি এই স্কুলের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত জানানোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আশা করছেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে।

দেড়শ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দ্রুত শূন্য পদে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং উপজেলা নাগরিক কমিটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় এক রাতে ৩৮৫ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


কুমিল্লায় এক রাতে ৩৮৫ জন আটক

কুমিল্লায় শিল্প-কারখানা শ্রমিক বিশৃঙ্খলার উসকানিদাতা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ৩৮৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ১১টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাসুদ রানা (২৬) নামের একজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল উসকানিদাতা। মাসুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছিলেন। এছাড়া, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা এবং কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না দেওয়ার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোরদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপদ নগরী গড়ার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশাসনের নিষেধের মধ্যেই ছদ্মবেশে গভীর রাতে মাহফিলে তাহেরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


প্রশাসনের নিষেধের মধ্যেই ছদ্মবেশে গভীর রাতে মাহফিলে তাহেরী

 

প্রশাসনের মৌখিক নিষেধাজ্ঞা ও বাধার আশঙ্কার মধ্যেই সিনেমাটিক কায়দায় ছদ্মবেশ ধারণ করে গভীর রাতে মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তাঁর এমন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টায় নাসিরনগরের ইসাপুর সৈয়দ মঞ্জিল দরবার শরিফে পূর্বনির্ধারিত মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েকজন কওমিপন্থী আলেমের আপত্তির পর সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে মাহফিলে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে মুখে কাপড় ও মাথায় সবুজ পাগড়ি জড়িয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে মাহফিলে উপস্থিত হন তাহেরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলের একটি বহরও ছিল। পরে তিনি মাহফিলে ওয়াজ করেন। ওই এলাকায় এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ওয়াজ মাহফিল বলে জানা গেছে।

মাহফিল শেষে বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পুরো ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তাহেরী।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন কওমিপন্থী আলেম মৌখিকভাবে মাহফিল বন্ধের বিষয়ে তাঁদের জানিয়েছিলেন। সম্ভাব্য গোলযোগ এড়াতে তাহেরীকে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরে তাঁরা শুনেছেন, তিনি এসে মাহফিল করেছেন। সারারাত এসব বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তবে মাহফিল আয়োজনে পুলিশের কোনো বাধা নেই।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাব নেতা ফরাশ উদ্দিন বলেন, একজন বক্তা মাহফিল করবেন, এতে বাধা থাকার কথা নয়। কারও দ্বিমত থাকলে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তা নিরসন করা যেতে পারে। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। আলোচনার মাধ্যমেই মতবিরোধের সমাধান হওয়া উচিত।

অন্যদিকে মাহফিলের আয়োজকেরা বলেন, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। সত্য, ন্যায় ও নবীপ্রেমের বার্তা প্রচারে বাধা দেওয়া উচিত নয়। বিরোধিতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এদিকে ছদ্মবেশে তাহেরীর মাহফিলে যোগ দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%