০২:৫৯ পি.এম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ উঠেছে যে, ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। অফিসটির দুই কর্মচারীর ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীরা হলেন- ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু এবং অফিস সহায়ক হারুন অর রশিদ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি ঘুষ আদায়ের কিছু দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
সরকারি ভূমি অফিসে জমির বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফির অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। নামজারি বা মিউটেশনের বিভিন্ন কারণে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে আল আমিন লাবু তিন হাজার টাকা এবং নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে হারুন অর রশিদ এক হাজার টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সালাম জানান, দীর্ঘদিন আগে নামজারির আবেদন করলেও তাঁর ফাইল টেবিলে উঠছিল না। একপর্যায়ে হারুন ও লাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে টাকা দিলেই কেবল কাজ হবে। পরে উপায় না পেয়ে তাঁদের দুজনকে চার হাজার এবং সার্ভেয়ারসহ কর্মকর্তার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
তবে অভিযুক্ত ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু ও অফিস সহায়ক হারুন অর রশিদ ক্যামেরায় ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, "আমি সেখানে সপ্তাহে দুই একদিন যাই এবং কেবল কাগজপত্র দেখে রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিচ্ছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কারো কাছ থেকে কেউ অর্থ নেয়, তবে সেটার দায় সম্পূর্ণ তার নিজের।"
বোডা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আরও পড়ুন: শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন