০৬:১৭ পি.এম
পঞ্চগড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত টাস্কফোর্স অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪ আসামিকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরে আবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতের ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নামীয় আসামিরা হচ্ছেন জেলা শহরের রাজনগর এলাকার জয়নাল (৪২), একই এলাকার শাহেন শাহ (৩৬), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার হাসিবুর রহমান (২৫), এবং একই এলাকার দিপু ইসলাম (৩৭)। উল্লেখ্য, দিপু ছিলেন পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারসহ টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। এই সময় জেলা শহরের হাজী মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত দোকানে মাদক সেবনরত অবস্থায় তারা ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া যায় এক পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, অর্ধেক পিস ইয়াবাসহ কিছু মাদকসেবন সামগ্রী।
পরে শের-ই-বাংলা পার্কে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তোলা হলে, ২০/২৫ জন লোক এসে তাদের হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদেরকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছ থেকে আবার গ্রেফতার করা হয়। পাওয়া হ্যান্ডকাপ দুটি কাটা অবস্থায় ছিল। রাতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।
অভিযানের সময় ইট পাটকেল ছোড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাড়ির কাঁচও ভেঙে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সিপাহী ফাহিমুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী, তরিকুল ইসলাম এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দিন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার ৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় বিরোধীয় জমিতে রাতের আঁধারে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা দিপু ইসলাম বলেছেন, ‘আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে রাস্তা থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি তাদের সাথে ছিলাম না।’
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, ‘আমরা পঞ্চগড়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন