০৮:৪৫ এম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি দিচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, এটি ভুল ব্যাখ্যা। তিনি জানিয়েছেন, এটি কোনো অনুদান, ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা নয়। বরং এটি শর্তের ভিত্তিতে ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে।
রবিবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধে তারা একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই তহবিল সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে—এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অর্থ বা অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমান নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য দেশগুলো সেখানে বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা ইরানকে টাকা দিচ্ছি না। আমরা শুধু বলছি, তারা আচরণ পরিবর্তন করলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগ করতে দেব, যাতে দেশটি উন্নতি করতে পারে।"
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত তহবিল ইতোমধ্যে আংশিকভাবে প্রতিশ্রুত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার কোম্পানিগুলো ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এই বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার হবে। এর মধ্যে মোবারাকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে উৎসাহিত করা। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই তহবিল গঠন বা কার্যক্রম শুরু হবে না। একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলো চিহ্নিত ও পরিকল্পনা করা হবে।
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
এদিকে জানা গেছে, ইরান শুরুতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ দিতে রাজি হয়নি। ফলে এই বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কাঠামোকে বিকল্প সমাধান হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য হলো, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু দেশের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ এবং চতুর্থ বৃহৎ তেল ভান্ডার রয়েছে। এর পাশাপাশি ৯ কোটির বেশি শিক্ষিত জনগণের সঙ্গে বিপুল শিল্প সম্ভাবনা থাকার কারণে, বিদেশি বিনিয়োগ আসলে দেশটির অর্থনীতিতে বৃহৎ পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন