মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০১:১৯ পি.এম
সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা দাবি এবং প্রতিবাদ করায় এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) হরষপুর ও আখাউড়া রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রেনে থাকা দুইজন হিজড়া বিভিন্ন বগিতে ঘুরে সাধারণ যাত্রীদের কাছে জোরপূর্বক টাকা দাবি করছিলেন। কয়েকজন যাত্রী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
এ সময় ট্রেনে থাকা সাংবাদিক মোঃ শরীফ উদ্দিন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ট্রেনে দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এসে তাদের সতর্ক করে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ চলে যাওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তি সাংবাদিক মোঃ শরীফ উদ্দিনকে আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছালে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতির প্রমাণ রাখতে সাংবাদিক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে বিষয়টি আবার ট্রেনে দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলাম-কে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে তাদের খোঁজ করেন। তবে ততক্ষণে অভিযুক্তরা ট্রেন থেকে সরে যান বলে জানান তিনি।
রেলওয়ে পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, "যাত্রীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। ট্রেনে জোরপূর্বক টাকা আদায় বা যাত্রীদের হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অল্পসংখ্যক সদস্য পুরো ট্রেনে দায়িত্ব পালন করি, তাই সব বগিতে সবসময় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।"
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলেন, ট্রেনে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত জোরপূর্বক টাকা আদায় করে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করেন। তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের কারণে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের গ্রামে বর্বরোচিত তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে ভদ্রবিলা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবারের ৩০টিরও বেশি ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাটের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং ঘরের মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে হামলা ও লুটপাটের ভয়ে থমথমে ভদ্রবিলা গ্রাম ছেড়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবুও আতঙ্কিত বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁদের ঘর থেকে ধান-চালসহ শেষ সম্বলটুকু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুটবল খেলা নিয়ে ভদ্রবিলা ও পলাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩ জুলাই পলাইডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা কাজী প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এবিষয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই ভদ্রবিলা গ্রামে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
সরেজমিনে ভদ্রবিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধুই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। দোকানপাট, বসতঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর—কোনো কিছুই হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায়নি। ঘরের ভেতরের খাট-পালং, শোকেস, আলনা ও আলমারি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে এভাবেই কেঁদে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন ভদ্রবিলা গ্রামের ইন্তাজ মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলছেন, “ঘাম ঝরানোর শ্রমে তিল তিল করে ২০ বছর ধরে এই সাজানো সংসার গড়ে তুলেছিলাম। চোখের সামনে সব মাটিতে মিশিয়ে দেয়। সব লুট করে নিয়ে গেছে, এখন আমাদের আর কিছুই বাকি নেই।”
একই গ্রামের লাল্টু বিশ্বাসের স্ত্রী রচনা বেগমের বাড়ির অবস্থাও একই। সবকিছু হারিয়ে তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে গ্রামের ভুক্তভোগী নারীরা এখন খোলা আকাশের নিচে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন।
এদিকে গ্রামে নতুন করে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রামে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার অভিযান চলছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় গতকাল, ইং ০৪/০৭/২৬ খ্রিঃ তারিখে সন্ধ্যায়, মান্দা সার্কেল এএসপি এবং অফিসার ইনচার্জ নিয়ামতপুর থানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাদক বিরোধী বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের প্রথম দফায় চন্দননগর ইউনিয়নের ছাতড়া বাজারে ১০০ পিচ ট্যাপেন্টাডলসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে ১. মহাদেব সরদার, পিতা রবিলাল সরদার এবং ২. ভুট্টু সরদার, পিতা দেবরাজ, ছাতড়া, চন্দননগর, নিয়ামতপুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের সময়, তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী ছাতড়া কলকুলা পাড়া থেকে পলাতক আসামী ৩. শিল্পী, পিতা আনন্দ সরদার এবং ৪. কেতকী, স্বামী: মৃত জোতিন সরদার এর বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ তৈরির উপকরণ এবং মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই বসতবাড়িটি একটি চোলাই মদ তৈরির কারখানা ছিল। উক্ত কারখানায় চোলাই মদ কোল্ডড্রিংসের বোতলে ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল। উদ্ধারকৃত কারখানা থেকে কয়েক শত চোলাই মদ ভর্তি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ১৩১০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ এবং ২৬ লিটার চোলাই মদ, পাশাপাশি কয়েকশত কোমল পানীয়র বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানায় ০১ টি মামলা রুজু রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তা সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। তিনি বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাকে জনসভায় অংশ নিতে হয়। নিরাপত্তা কৌশল বিন্যস্ত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন জনগণ থেকে সরকারপ্রধান বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন।’
রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং পিজিআর সদর দফতরে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া ৫ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রেখেছে। পিজিআরের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন প্রশংসনীয়।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সাইবার যুদ্ধসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক এবং প্রশিক্ষিত হওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাহস, সততা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কখনও হুমকির মুখে পড়বে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি যাতে ইসরাইল কোনো পরিস্থিতিতেই নস্যাৎ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুল শহরে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি পরিষ্কার করে জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা এবং অবদান ছাড়া তৈরি হওয়া কোনো সমাধান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরাইলি প্রশাসন অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ইসরাইল সরকারকে যুদ্ধ-আসক্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুঙ্কার দেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ-আসক্ত ইসরাইলি সরকারকে আমাদের ভূগোলকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।’
তুর্কি নেতা এর আগেও একাধিকবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, গাজার হামলা, লেবানন এবং সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অবিরত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
গত ১৭ জুন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর, চুক্তির বাস্তবায়ন কিভাবে হবে, সেই বিষয়ে গত মাসের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক শহরে কারিগরি বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বসেন। বৈঠকে বেশ কিছুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বৈঠকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করা হয় পাকিস্তান ও কাতারের তরফ থেকে।
বিষয়টি পরবর্তীতে, লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার কারণে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হয়। এর ফলে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। এমনকি নৌ চলাচলে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর, গত সপ্তাহে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে অংশ নেননি। ইরানের পক্ষে কারিগরি দলের নেতৃত্ব দেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বৈঠকে প্রধানত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ এবং লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে ইরানি গণমাধ্যমকে শিক্ষামূলক বক্তব্যে কাজেম গারিবাবাদি জানান, দোহায় দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের’ বিষয়টি উত্থাপন করে ইরান। এই সময়, ভবিষ্যতে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করতে উভয় পক্ষ এক সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা বা যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয়।
দ্বীতিয় বৈঠকে বিদেশে জব্দ যাওয়া ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা এই অর্থ ছাড়ার বিষয়ে তেহরান দাবি জানিয়ে আসছে। উভয় পক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
যদিও বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের রক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দ অর্থ ছাড়সহ বাণিজ্যিক বিষয়গুলোর আলোচনা অব্যাহত থাকলেই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির আশার জন্ম দিতে পারে। খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শেষে আগামী ১১ জুলাই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে, এমন তথ্য উরিষ্ঠ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ