১০:০৩ পি.এম
ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬ : জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে নবনিযুক্ত এডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা সভায় ব্যক্ত করেছেন। সভায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করে মূলত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।
দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর পরনির্ভরশীলতা দূর করে তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রায় ১২৪৪ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক 'সিড মানি' বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতিবার সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। লভ্যাংশের অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হওয়া হবে, যেন ভবিষ্যতে ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।
ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা চলাকালীন তিনি জানিয়ে দেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধের বিষয়বস্তুতে ‘জিরো টলারেন্স’ প্রদর্শন করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিগত ১৭ বছরে দেশজুড়ে বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থা এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। আগের সময়ে ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলার বার্তা তিনি দিয়েছেন।
সভায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, আইন সমeveryone জন্য সমান। দুর্নীতি বা অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তি যদি কোনো প্রমাণসহ ধরা পড়ে, তবে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতে রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।
আরও পড়ুন: ট্রেনযাত্রীর ব্যাগ ছিনতাই, লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুন থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার
তিনি একইসাথে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদও দিয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশের প্রখ্যাত শুটার শারমিন আক্তার রত্ণা ও প্রবীণ নারী সংগঠকদের প্রশংসা করেছেন এবং দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন ৪টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত ৩টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।
খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করাও হবে। পর্যালোচনায় যদি পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন, তবে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শ্যুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আরচ্যারি এবং অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: সরকার ৮ লাখ টন ধান-চাল ক্রয় করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন