০১:৩২ এম
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দুই দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে জীবন, সংগ্রাম এবং আশাবাদের বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয় এবং এটি চলে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পর্যন্ত।
জানা যায়, 'স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীরা আট মাস ধরে মৌলিক নীতিমালাকে উপেক্ষা করে দ্রুত সংবাদ উপস্থাপনের প্রবণতার বাইরে এসে গভীর অনুসন্ধানের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে তারা নিজেদের কাজগুলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন, যার মধ্যে ছিলেন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মনির জিনিয়া, ইয়ারুন নেসা সারা, ইসরাত জাহান হ্যাপী, হুমায়রা কবীর প্রাপ্তি, জুবাঈদা শারমিন, মোহাইমিনা খান এবং রাহিমা নেসা স্নেহা।
দৃক ট্রাস্টের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে। জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক কাজী নাফিয়া রহমান এবং আশরাফুন নাহারের তত্ত্বাবধানে 'স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।
এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সায়দিয়া গুলরুখ এবং সামিয়া রহমান প্রিমা, তত্ত্বাবধান করেন দৃক-এর জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান। প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান, আলোকচিত্র সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম।
তারা প্রদর্শনী ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। উপাচার্য ড. পারভীন হাসান মন্তব্য করেন, 'সাংবাদিকতা সমাজকে তুলে ধরার একটি বড় শক্তি। সাংবাদিকদের ভূমিকা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষার্থীরা এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলবে।'
আরও পড়ুন: ঢাকা বোর্ডের ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ, শতভাগ ফেলের অভিযোগ
আলোকচিত্রী ও দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের কাজগুলো পেশাদার মানের হয়েছে। এমন উন্নত মানের কাজ আরো বড় পরিসরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আগে আমি এখানে এসে তাদের প্রাথমিক কাজগুলো দেখেছি। শুরু থেকেই দেখেছি, তাদের কাজগুলো বেশ ভালো। আমরা অনেক সময় বড় প্রদর্শনীগুলোতে যা করি, সেখানে নারী সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকে না। আমার মনে হচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই জায়গাটি পূরণ করবে।'
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান সজীব সরকার বলেছেন, 'গণমাধ্যমগুলো কে কার আগে খবর প্রকাশ করবে, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কিন্তু, দ্রুততার সঙ্গে খবর দিতে গিয়ে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্লো জার্নালিজম-এর ধারণা সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোকে নৈতিকতা মেনে এবং মান বজায় রেখে প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করবে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, 'ছবি অনেক শব্দের চেয়েও বেশি কথা প্রকাশ করে। মানুষের মনে ছবি যে প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ-বিগ্রহসহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনায় জনমত তৈরিতে ছবির এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার আমরা বহুবার দেখেছি।'
আরও পড়ুন: বেরোবি এআইএস ক্লাবের নতুন কমিটি, সহসভাপতি রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন