ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের সামনে ফের গ্রাহকদের অবস্থান


৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের সামনে ফের গ্রাহকদের অবস্থান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইসলামী ব্যাংক ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা অবস্থান করে।

এদিন তারা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন, সেগুলো হচ্ছে-

আরও পড়ুন: সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেবে সরকার

১। ইসলামী ব্যাংকে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করতে হবে।

২। সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

৩। যারা লুটপাটের সাথে জড়িত, তাদের ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে থাকতে দেওয়া উচিত নয়।

৪। ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ইস্যু বিশ্বে সময়োপযোগী রাখতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

৫। এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা প্রয়োজন।

৬। শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

৭। ইসলামী ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

কর্মসূচির কারণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের পাশে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জলকামান ও সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

আন্দোলনকারীরা দাবী করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি রয়েছে, এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল থেকে ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (১ জুন) একই দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সেই কর্মসূচির সময় পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ফলে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও তারা জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ছিল ভিন্ন।

আন্দোলনের কারণে সোমবার দিনেরবেলায় ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত পর্ষদ সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্ষদের পাঁচ সদস্য অংশ নেন।

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল সভায় ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসার ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


রামিসার ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন

রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ জন। সাক্ষীরা আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের পরের নৃশংস চিত্র তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

একই সঙ্গে, আদালত বুধবার, ৩ জুন, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এদিন সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসেন রামিসার বাবা। এ সময় তিনি বলেন, মেয়ে হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।

এর আগে, সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

দুই আসামির বিরুদ্ধে সোমবার, ১ জুন, ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা দেখতে পান সোহেল রানা'র শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে পড়ে রয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

 

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার একটি মাঝারি বা সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছে। এটি আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী থাকে।

ডব্লিউএমও বলেছে, উষ্ণ সমুদ্রের জল এল নিনোর বিকাশকে আরও ইন্ধন দিচ্ছে এবং জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ডব্লিউএমও আরো জানিয়েছে, এল নিনো সম্ভবত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, ‘আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এর ফলে খরা ও ভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও স্থল ও সমুদ্র উভয় স্থানে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো উপস্থাপন করেছেন, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবেই ২০২৪ সাল এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ বছর হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।

এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন করে এল নিনো গঠনের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে, সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচেও অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নিচে জমে থাকা এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে ওপরের পানিকে আরও উষ্ণ করছে। এর কারণে এল নিনোর শক্তি বৃদ্ধি এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার শিং অঞ্চলের কিছু দেশ এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকায় খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আরও জানাচ্ছে, এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। সেইসাথে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেনের শক্তি বৃদ্ধিতেও এটি অবদান রাখতে পারে।

এদিকে, আন্তোনিও গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে দেখতে হবে। এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব আরো বাড়িয়ে দেবে।’

তবে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে বা আরো শক্তিশালী হচ্ছে, এমন প্রমাণ এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে ভয়াবহ করতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ, ভারি বৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খরতাপে এগিয়ে আসলো হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


খরতাপে এগিয়ে আসলো হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুম

রংপুরে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই প্রকৃতির রুক্ষ আচরণের প্রভাব রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের ওপরে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে এবারের হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময়সূচি পাঁচ দিন এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর কৃষি বৃহত্তম অঞ্চলগুলোতে আগে ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাতের আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমানে তা পরিবর্তন করে ১৫ জুন করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগে থেকেই স্থানীয় বাজারে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আমের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার হাঁড়িভাঙা আমের একটি অসাধারণ বছর। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গাছে প্রচুর আম ধরেছে। তবে এই আমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর সংরক্ষণক্ষমতা কম হওয়া। পাকার পর সাধারণত এই আম তিন থেকে চার দিনের বেশি ভালো থাকে না। ফলে দেশের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছেন।

রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হাঁড়িভাঙা আম দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও একটি সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ প্রযুক্তির অভাব এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতির কারণে রপ্তানিকারদের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষি বিভাগ যদি এই আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও ব্যাপক পরিসরে রপ্তানি সম্ভব হবে। যদিও গত পাঁচ বছর ধরে কৃষি বিভাগ সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার কাজ করছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এখনো তার দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

রংপুরের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মো. জুননুন বলেন, “রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন এবং বিশ্বের আরও অনেক মানুষ এই সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।” তিনি এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে ১ হাজার ৯০২ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। এবারে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত গরমের কারণে হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পরিপক্ব হচ্ছে। এ কারণে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রাতে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের তরফ থেকে সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বিস্তারিত বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। পাশাপাশি এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সংস্থাটির অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটে যেতে পারে। এ সময় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%