০৬:০৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বনের জমি দখল করে নির্মিত ক্লাবঘরটি উচ্ছেদ করা হলেও, কানাডাপ্রবাসীর বাড়ি অক্ষত রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে বনের ১৫০ বর্গফুট জমিতে নির্মিত ক্লাবঘরটি বন বিভাগ ভেঙে দিয়েছে। তবে পাশেই দখল করা প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে নির্মিত কানাডাপ্রবাসী এমারত সরকারের স্থাপনা উচ্ছেদে বন বিভাগের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
আরও পড়ুন: ঢাকায় গিয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু ইমাম, সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি
এ বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা বিট এলাকায়, চিতেশ্বরী স্কুলপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চিতেশ্বরী গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক সরকারের ছেলে, কানাডাপ্রবাসী এমারত সরকার, ক্লাবঘরটির উত্তরপাশে প্রায় ১০ শতাংশ জমি দখল করেন। এরপর তিনি সেখানে টিনের একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং একটি টিউবওয়েলও স্থাপন করেন।
পরে বাড়িটি মাসে দুই হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
এদিকে, গত সপ্তাহে হাঁটুভাঙ্গা বিট কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্লাবঘরটি ভেঙে দেওয়া হলেও, এমারত সরকারের দখল করা ওই ১০ শতাংশ জমিতে নির্মিত বাড়ি উচ্ছেদে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন বিভাগ।
চিতেশ্বরী গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যেমন সমেজ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, গনি শিকদার, শাহ মেছের আলী এবং আজিজুল হক অভিযোগ করেছেন যে, বাঁশতৈল সদর বিট কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের ছোট ভাই, চিতেশ্বরী গ্রামের ঠান্ডু শিকদার, এমারত সরকারের পক্ষে কাজ করছেন, যাতে ক্লাবঘরটি প্রতিষ্ঠা করা না যায়। কারণ, এমারত হোসেন সামনের অংশে ঘর দিয়ে দোকান ভাড়া দিতে চান, যদি ক্লাবঘরটি না থাকে।
সূর্য সংঘ সৃষ্টি সংঘের সভাপতি নাহিদুজ্জামান নাহিদ বলেছেন, ২০১০ সাল থেকে সামাজিক কাজের মাধ্যমে আমাদের ক্লাব যাত্রা শুরু করে। বনের জমিতে ক্লাবঘরটি নির্মাণ করলেও এর অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, এই কারণে সম্প্রতি সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বন বিভাগের লোকজন এসে ঘরটি ভেঙে দিয়েছেন। অথচ উদ্ভট কারণে পাশেই বনের জমিতে নির্মিত এমারত সরকারের ঘর উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বন বিভাগের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
বনের জমিতে কানাডাপ্রবাসীর ঘর কেন উচ্ছেদ করা হয়নি, জানতে চাইলে হাঁটুভাঙ্গা বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে বন বিভাগের বাঁশতৈল রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) অমি আক্তার বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে উচ্ছেদে মামলা করব।’
আরও পড়ুন: সিলেটে যান চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ, রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন