০৪:২৫ পি.এম
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে একদম ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, আগামীদিনগুলোতে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করবে।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাথে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈঠকটি সত্যিই ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে চলন্ত প্রাইভেট কারে ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সাথে তার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একই সফরে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় ড. খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমাদের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে রয়েছে এবং আগামীদিনগুলোতে আমরা এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে স্বল্পপরিসরের বৈঠক হওয়ায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নিয়েই বেশিরভাগ আলোচনা হয়েছে।
বোইং উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে নয়, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বোইং উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে আসছে। এটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইতিবাচক উদাহরণ।
আরও পড়ুন: খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূ নাঈমা: ‘আমি নিরাপদে আছি’
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যে মানবিক সহায়তা পেয়ে থাকে, তার অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ বা সংশ্লিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এটিকে কোনো একক বৈঠকের বিষয় না, বরং ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
আওয়ামী লীগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র কিংবা মানবিক করিডোরের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলোও এ বৈঠকে আলোচিত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) ব্যবস্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক উঠানো হয়, পরে তদন্ত শেষে বাংলাদেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব উদযাপন, আনন্দমুখর পরিবেশে বিভিন্ন আয়োজন
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য ট্যারিফ কোটা ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকে মার্কিন তুলা বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ম্যান-মেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং আরও একটি আসিয়ান দেশ এই সুবিধা পেয়েছে।
মানবাধিকার এবং র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। তবে বৈঠকে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ দায়িত্ব পালন বিষয় নিয়েও সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা বিদ্যমান। সেহেতু সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে রেমিট্যান্স ৮৮ কোটি ডলার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন