১০:৫৬ পি.এম
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশটি থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে পর্যটন অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ এবং বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো তুরস্কের মানুষের কাছে তুলে ধরার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন তুরস্কের কোনিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ডেনিজ বুলকুর। বিটিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে পর্যটন খাতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
আরও পড়ুন: খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূ নাঈমা: ‘আমি নিরাপদে আছি’
তুরস্কের কোনিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ডেনিজ বুলকুর বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশে তুরস্কের পর্যটকদের ভ্রমণে উৎসাহিত করার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলো তুরস্কের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।"
বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে পর্যটন অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট এবং এ খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, "বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের নির্দেশক্রমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।" তিনি আরও জানান, পর্যটনমন্ত্রী ও সচিবের পরামর্শ এবং নির্দেশনায় দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, "দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে।" বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্যটন সম্পর্ক জোরদার হলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: কাল শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় পর্যটন খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই পক্ষ বাংলাদেশকে তুরস্কের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার এবং দেশের পর্যটন শিল্পে তুর্কি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যতেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন