০৪:১৫ পি.এম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিং, মারধর, হয়রানি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বুধবার ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, র্যাগিং ও হয়রানির ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদক সেবনের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হন। এই ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ
গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকবৃন্দের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘মেম্বার-চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবা, নালা ভেঙে ফেলব’: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন