০৪:১৪ পি.এম
সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৯ শিশু এবং এক নার্সের মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৯৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এটি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের মোট ৩২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বাধিক ১৭৭ জন, সিলেট জেলায় ১০৫ জন, হবিগঞ্জে ২৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন দেখা গেছে। এছাড়াও হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের রুবেলাও শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রাণনাশের হুমকি
গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় আরও চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে নতুন ৮০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতানে ৫ জন, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে একজন এবং কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৯৭ রোগীর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম এবং নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০-এ পৌঁছেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমান বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৯৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, সড়ক অবরোধ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
