০৬:১৯ পি.এম
ইউক্রেনের হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আজভ সাগরে বিকল্প নৌপথের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পাশাপাশি, একই সময়ে ওই সাগরে জাহাজ চলাচল সীমিত করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কিয়েভ মহল থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে ইউক্রেন সেখানে শতাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আজভ সাগরটি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চল ও রাশিয়া অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার মধ্যে অবস্থিত এবং এটি কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে গন্য।
এই সমুদ্রপথের মধ্য দিয়ে দখলকৃত ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি করা হয়, যা কিয়েভ 'চুরি করা' শস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া, ক্রিমিয়ায় প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাঠানোর জন্যও এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন
ইউক্রেনের হামলাগুলোর পাশাপাশি, রাশিয়া গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার উদ্যোগও জোরদার করেছে, যাতে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ও ব্যবসায়ী মহলের সাথে সমন্বয় করে তারা বর্তমানে 'বিকল্প নৌপথ নির্ধারণের কাজ' করছে। তবে, মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুসারে, 'আজভ সাগরের পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ বা রপ্তানি সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।' যদি প্রয়োজন হয়, তারা সরবরাহ ব্যবস্থার পথ পরিবর্তন করার কথাও জানায়।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজভ সাগরে বেসামরিক জাহাজগুলোতে শত্রুপক্ষের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পণ্য পরিবহনের জন্য 'সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা' নেওয়া হচ্ছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, 'প্রয়োজনে' কিছু পণ্য অন্য পরিবহন ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সংঘাতে নিহত ৫০ জনের বেশি
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার মঙ্গলবার দাবি করেছেন, গত নয় দিনে তারা ইউক্রেন '১১৬টি জাহাজে হামলা' পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে আজভ সাগরে থাকা কয়েকটি তেলবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে রাশিয়ার 'ছায়া নৌবহর' ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মস্কোর নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকা ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন