০৯:৪০ পি.এম
জেলা প্রশাসন বান্দরবানে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার সময়ে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। তবে মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৭টি ভূমিধস ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১১টি বড় ধরনের ঘটনা ছিল। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে।
পাহাড় ধস এবং গাছ উপড়ে পড়ার কারণে জেলা ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও চারটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সেতু সচল করা গেলেও বাকী তিনটির সংস্কারকাজ চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লামা পৌর এলাকা, বান্দরবান পৌরসভা ও সদর উপজেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও বর্তমানে ৬৭টিতে ২ হাজার ৫৮২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
এদিকে, ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।
ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৪০০ টন চাল এবং ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা করে ৮০ হাজার ৫০০ দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৮ হাজার ৫৬০ ব্যাগ ত্রাণসামগ্রী, ৮৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে থানচিতে ১৬৭ জন, রুমায় ৩৭ জন এবং আমিয়াখুম এলাকায় চারজন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। পরে বিজিবির সহায়তায় তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন