১০:১৯ এম
জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই দশক পরে আদালত রায় দিয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়ে ব্যাপক আলোচিত মামলার নির্যাতিত নিহত মরিয়ম বেওয়ার সৎছেলের সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়াও, প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। গতকাল ২৭ জুলাই সোমবার, জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. তসরুজ্জামান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইয়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সুজাউল ইসলাম, মৃত কছিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছালামত মোল্লা এবং আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সরকার।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মরিয়ম বেওয়া তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে এবং পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে সৎছেলে সুজাউল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর, পাশের একটি মাঠে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মরদেহ পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর এলাকায় প্রচার করা হয়, মরিয়ম বেওয়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জন্মায় এবং ঘটনাপ্রবাহে অসংগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরের দিন পুলিশ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট নিহতের বোন জয়পুরহাটের কালাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার সার্বিক উপাদান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বুড়িচংয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আদালতের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায় ঘোষণার পর পুলিশ তাদের আদালত চত্বর থেকেই কারাগারে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন