ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আলফাডাঙ্গায় আকাশ মিয়ার পরিবারের সদস্যের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ছিরু খন্দকারসহ পরিবারের সদস্যরা


আলফাডাঙ্গায় আকাশ মিয়ার পরিবারের সদস্যের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ছিরু খন্দকারসহ পরিবারের সদস্যরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রামে মরিশাসপ্রবাসী সমাজসেবক আকাশ মিয়া ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের ঘটনায় ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ছিরু খন্দকারসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝি ও বিরোধের অবসান ঘটেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মেম্বারের বাড়িতে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে এ বিরোধের মীমাংসা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও রফিক মেম্বারের আন্তরিক উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

জানা যায়, পূর্বের ভুল-বোঝাবুঝি ও আকাশ মিয়া এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে তাঁদের কাছে ক্ষমা চান ছিরু খন্দকার (পিতা: মৃত মজিদ খন্দকার), আসমা বেগম (স্বামী: ইয়ার খন্দকার) এবং অন্তরা খাতুন (ইয়ার খন্দকারের মেয়ে ও কৃষ্ণপুর গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী)। তাঁরা প্রত্যেকে পৃথকভাবে নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও অঙ্গীকার করেন।

আরও পড়ুন: মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মিঠু নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার

বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারী রফিক মেম্বারের উপস্থিতিতে দুই পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। এর মধ্য দিয়ে বিরোধের অবসান ঘটে এবং দুই পরিবারের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার পথ সুগম হয়।

এ বিষয়ে মরিশাসপ্রবাসী সমাজসেবক ও ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত আকাশ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, মানুষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সেই ভুলের অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক। কারও সঙ্গে বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

স্থানীয়দের মতে, পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের অবসান সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জাটিগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা

আরও পড়ুন: মধুপুরে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি, একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে শুদ্ধি অভিযানে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


চীনে শুদ্ধি অভিযানে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বহিষ্কার

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) মাও সেতুং যুগের পর দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন ও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো, যেমন এনবিসি নিউজ, জানিয়েছে যে, দুর্নীতি এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৩৩ জন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই কঠোর সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির প্লেনারি অধিবেশনে গৃহীত হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য মা শিংরুই এবং দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সাবেক নেতা ঝাং ইউজিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এছাড়াও, সাবেক শিল্পমন্ত্রী জিন ঝুয়াংলং, সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক লিউ জিয়ানচাও, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক প্রধান লি ইউনজে এবং সিকিউরিটিজ রেগুলেটরের সাবেক প্রধান ই হুইমানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এই বরখাস্তের আওতায় পড়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই গণ-বহিষ্কারের ফলে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত প্লেনারি অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতির হার ৭৪.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মাও সেতুং আমলের পর থেকে সর্বনিম্ন।

শি জিনপিং প্রশাসনের দাবি, দলীয় শাসনকে আরও সুসংহত করার জন্য এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও প্রশাসনিক শিথিলতা দূর করতে এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি বা কঠোর disciplinary campaign পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


ঢাকায় শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ঢাকার জনজীবন টানা কয়েকদিনের গরমে হাঁসফাঁস হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবারের আকাশ ছিল মেঘলা, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। সূর্যের প্রখরতা তেমন অনুভূত হয়নি। কিন্তু মেঘলা আকাশের মধ্যে বৃষ্টি হয়নি। এই অবস্থায় ভ্যাপসা গরম এখনও বিরাজমান।

তবে আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলের দিকে ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদার এই তথ্য জানিয়েছে।

অ্যাকুওয়েদার জানায়, ঢাকার আকাশ বেশিরভাগ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। শুক্রবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৬৬ শতাংশ। প্রায় এক ঘণ্টায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামীকাল ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। তবে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো মনে হতে পারে।

রাতের দিকে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে নেমে আসবে। অ্যাকুওয়েদারের তথ্য অনুযায়ী, রাতের সময়েও রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনার ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের মৃত্যু: চার লাখ টাকার ঋণ ও সিসিটিভিতে ২২ মিনিটের রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


বরগুনার ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের মৃত্যু: চার লাখ টাকার ঋণ ও সিসিটিভিতে ২২ মিনিটের রহস্য

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় মা ও তাঁর দুই শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা চার লাখ টাকার বেশি ঋণ, সংসারের আর্থিক অনটন ও কিস্তি পরিশোধের দুশ্চিন্তাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪) প্রথমে তাঁর দুই মেয়েকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন। তবে মামলার বাদী স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই কারণে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্তের ফলাফল ও পরিবারের দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ জানায়, মামলার আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) এবং অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইতি রানী বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে যান। পরে সেখানকার দুটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোয় প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা তৃতীয় তলায় যান। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে বড় মেয়ে আরাধ্যাকে তিন নম্বর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর ছোট মেয়ে অনুরাধাকে চার নম্বর কক্ষে রেখে ইতি রানী তিন নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন।

ফুটেজ অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ইতি রানী তিন নম্বর কক্ষ থেকে বের হন। তিন সেকেন্ড পর, সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে তাঁকে চার নম্বর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর ওই কক্ষগুলো থেকে তাঁদের কাউকে জীবিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের ধারণা, ইতি রানী কোমল পানীয় অথবা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দুই মেয়েকে পান করিয়ে থাকতে পারেন। এরপর শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করে নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতি রানীর মৃত্যু হয়েছে বেঞ্জোডায়াজেপিন-জাতীয় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় এবং চিকিৎসকদের মতে, তা আত্মহত্যাজনিত। অন্যদিকে, দুই শিশু আরাধ্যা ও অনুরাধার মৃত্যুর ক্ষেত্রে একই ধরনের রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি আঘাতজনিত শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতামতে তাদের মৃত্যু হত্যাজনিত বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনজনের কারও ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা আর্থিক হিসাব বলছে, পরিবারটির মোট ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ সাত হাজার ৭২৩ টাকা। পুলিশের তথ্যমতে, ইতি রানী পাঁচটি এনজিও থেকে মোট দুই লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে নিয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনিল রায় ও বাবুল রায়ের কাছ থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এক লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় চার লাখ সাত হাজার ৭২৩ টাকা।

পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সুপারি ব্যবসার পাশাপাশি দর্জির কাজ করতেন। তাঁর ছোট টেইলারিং দোকান ও সীমিত পরিসরের সুপারি ব্যবসা থেকে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে নদীভাঙনে তাঁদের পুরোনো বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁরা সরকারি জায়গায় বসবাস করছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বামীকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন ইতি রানী। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও সংসারের অনটন নিয়ে তিনি মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা, এই আর্থিক সংকট তাঁর হতাশার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে নারাজ মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে ইতি রানী দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করবেন, এমন ঘটনা তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি। তাতে কী লেখা এসেছে, তাও জানি না। ঋণের কারণে আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে মেরে ফেলবে, তা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।'

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এ দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। ফলে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরও পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা নিয়ে জনমনে আগ্রহ রয়ে গেছে।

একটি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু, চার লাখ টাকার বেশি ঋণের হিসাব, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া কয়েক মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন- সব মিলিয়ে মামলাটি পেয়েছে নতুন মাত্রা। পুলিশের তদন্তে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে ঋণের চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাদীর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা। এখন আদালতে দাখিল হতে যাওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার অভিযোগ, আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ কীভাবে মূল্যায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আইনি সিদ্ধান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাকিবকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত: ইয়ান বিশপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


সাকিবকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত: ইয়ান বিশপ

সাকিব আল হাসান দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এবং সফল ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকের পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

রাজনীতিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে সাকিব ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন, যা বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের জন্য একটি নতুন অধ্যায়।

দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর এইচপি দলে মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল। সাকিবকেও কোচ বা মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব কি না, এ বিষয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের ধারাভাষ্য দিতে এসে সাকিব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিশপ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘সাকিব কেন এখানে নেই, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার মতো অবস্থানে আমি নেই। সংবাদমাধ্যমে যা পড়েছি, তার বাইরে বিষয়টির জটিলতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

তবে তিনি নিজ দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের উদাহরণ টেনে তাদের কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশপ বলেন, ‘ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার ও গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার রয়েছেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেট যদি কাইরন পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভো কিংবা ড্যারেন স্যামির মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আমাদের ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আবার স্কুলপর্যায়ের শিশুদেরও শেখাতে পারেন। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।’

বিশপ আরও উল্লেখ করেন, ‘বছরের পর বছর ধরে যারা অভিজ্ঞতা ও সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের জ্ঞান যেন হারিয়ে না যায়। বাংলাদেশেও এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। ক্যারিবীয় অঞ্চলেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%