০৯:৪৩ এম
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ট্রাফিক পুলিশের অত্যাচারের শিকার হয়ে এক রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র গণ-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ওই তরুণ চালক মোটরসাইকেলের চাকা লক করে দেওয়ার পর ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা নেপালের 'জেন জি' আন্দোলন নিয়ে এসেছে।
নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কাঠমান্ডুর একটি সড়কে তিনি গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল (পৌর) পুলিশ আকস্মিকভাবে এসে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে এবং জীবিকার ক্ষতি হওয়ায় হতাশ হয়ে তরুণ চালক নিজের শরীরে পেট্রোল ঢালেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আসার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও, পরের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর সরকারি দপ্তর ‘সিংদরবার সচিবালয়’-এর বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘গরিবদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করুন’-এর মতো স্লোগান লেখা দেখা যায়। সাধারণ জনগণ এই ঘটনার জন্য বালেন শাহ সরকারের ‘দরিদ্র-বিরোধী ও আগ্রাসী’ নীতি দায়ী হিসেবে দেখছেন। বালেন্দ্র শাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ফুটপাত পরিষ্কার, হকার উচ্ছেদ এবং নদীর ধারের অবৈধ বসতি সরানোর নামে দরিদ্র ও ভূমিহীনদের ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনজীবী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠমান্ডুর পৌর পুলিশ নিজেদের ক্ষমতার বেআইনিভাবে অপব্যবহার করছে। প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাঁই বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশকে শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের কাজ হচ্ছে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা। যেকোনও যানজট বা আইন ভঙ্গের সমস্যা হলে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তারা হকারদের ধাওয়া করছে এবং নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’
২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, এই বাহিনীর প্রধান কাজ হল সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি ও উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাদের লাঠিচার্জ বা কাউকে আটক করার কোনো এখতিয়ার নেই। নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণচন্দ্র যোশী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হলে পৌর পুলিশ ‘নেপাল পুলিশ’-কে ডাকতে বাধ্য, তারা নিজেদের উদ্যোগে কোনো কাজ করতে পারবেনা।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
আইনি সীমাবদ্ধতা ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দিনমজুর ও প্রান্তিক মানুষের ওপর পুলিশের এই অতি উগ্র আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বালেন্দ্র শাহ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন