০৬:১০ পি.এম
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ইউএস ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস। এর আগে গত বুধবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই অর্থায়ন অনুমোদিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ এর আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা’ জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও পদ্ধতি গড়ে তোলা।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার এবং ব্যাংক রেজোলিউশনের ভিত্তি তৈরিতে এই প্রকল্প সহায়ক হবে। এটি আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়িয়ে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্নেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা এবং বেআইনি ঋণ প্রদানের কারণে বড় সমস্যা মোকাবিলা করছে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ব্যাংকের গড় হারের (৭ দশমিক ৯ শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো ব্যাংক খাতে ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশ যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। তবে ব্যাংক খাত—যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ—বর্তমানে তীব্র চাপের মুখোমুখি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পটি ছোট আমানতকারীদের রক্ষা করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
এটি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন