০৮:৫৭ এম
জীবন কখনও কখনও আমাদের সামনে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড় করায়, যেখানে একটি সিদ্ধান্ত আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ বদলাতে পারে। কোন চাকরিটি বেছে নেব? কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করব? অথবা জীবনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপটি কী হতে পারে? এসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও দোলাচলের মুহূর্তে আমাদের চিন্তাভাবনা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, প্রতিটি পথে কোথা না কোথায় ঝুঁকি উপস্থিত। এমনকি ইস্তিখারা করার পরও অনেকের জন্য সিদ্ধান্তে দ্বিধামুক্ত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ঠিক এমন বিভ্রান্তিকর ও কঠিন অবস্থা, যাতে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জন্য একটি অসাধারণ এবং সংক্ষিপ্ত দোয়া প্রদান করেছেন। নিচে লেখাটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হলো।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রিয় জামাতা ও চাচাতো ভাই হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছিলেন। এই দোয়া মনের সকল দ্বিধা-বিভ্রান্তি দূর করে দেয়।
আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা
নেতা, বিচারক এবং পারিবারিক প্রধান হিসেবে হযরত আলী (রা.)-কে জীবনের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতো। সেই ব্যস্ততায় ও দায়িত্বপূর্ণ জীবনে ওই সংক্ষিপ্ত দোয়াটি ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। আপনার জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মুহূর্তেও এটি হতে পারে আপনার সবচেয়ে কার্যকরী হাতিয়ার। দোয়াটি (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৭২৫)
আরবি:
اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ্-দিনী ওয়া সাদ্দিদনী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে সোজা ও সঠিক পথের ওপর অবিচল রাখুন।
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
রাসুলুল্লাহ সা. হজরত আলী (রা.)-কে কোন দীর্ঘ চাওয়ার তালিকা দেননি। বরং মাত্র দুটি শব্দের মধ্যে জীবন গঠনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রেখেছেন। ১. আইন-ইশারা বা পথপ্রদর্শন (ইদিনি): এর অর্থ হলো আল্লাহর কাছ থেকে এমন জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি চাওয়া, যা আপনাকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করবে।
২. সোজা তীরের মতো অবিচলতা (সাদ্দিদনী): তীর যেভাবে লক্ষ্যভেদের জন্য সোজা উড়ে যায়, ঠিক তেমনই আপনি যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা থেকে বিচ্যুত না হন এবং সেই সঠিক পথে অবিচল থাকেন।
কতবার এবং কখন পড়বেন?
এই দোয়াটির পড়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই: রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়ার জন্য বিশেষ সংখ্যা নির্দিষ্ট করেননি। তাই ছোট বা বড় যেকোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলে এটি নিয়মিত ও বারবার মনে মনে পড়তে থাকুন।
আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়: দোয়াটি যেকোনো সময় পড়া যেতে পারে, তবে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে (যেমন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় বা সেজদারত অবস্থায়) অধিক পাঠ করা উচিত।
পৃথিবীর সকল মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তার সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে, নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি, এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখা প্রয়োজন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কখনো পথভ্রষ্ট করেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন