১০:০৬ এম
তিন দিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর জবাবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে সংঘটিত হয়েছে, এই হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল, সে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ইরানের সরকার বদলাতে এসে নিজ দেশেই ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অবস্থান, রসদ এবং অস্ত্রের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবির বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জবাব এড়াতে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে হামলা বন্ধ করতে হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সৌদি আরবও দাবি করেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকে অবস্থানরত ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন দ্বারা হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে হামলা শুরুর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর আগে টানা তিন দিন دو দেশের মধ্যে কোনো হামলা বা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই বিরতির লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবেদ আবু শেহাদেহ: ‘ভয় পাওয়া চলবে না, আমরা সঠিক পথেই আছি’
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে এখনও অচলাবস্থা রয়েছে। যদিও তেহরান এমন কোনো আলোচনা চলছে বলেই অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
পেন্টাগন জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৪১৭ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংক্রান্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন।
নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বাংলাদেশ কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন