০৫:০০ পি.এম
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আফ্রিকান দেশগুলোর জয়জয়কার সকলের নজরে এসেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা কেপ ভার্ডের থেকে শুরু করে আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে অন্যান্য দলগুলোর পারফরমেন্সের প্রশংসা হচ্ছে সর্বত্র।
প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড ১০টি আফ্রিকান দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র তিউনিশিয়া বাদে বাকি ৯টি দলই নক আউট পর্বে উঠে হইচই ফেলে দিয়েছে।
ফেবারিটের তকমা গায়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসা স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল ও ব্রাজিলের মতো দলগুলো গ্রুপ পর্বে আফ্রিকান প্রতিপক্ষের সাথে পেরে উঠেনি।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
আলজেরিয়ার তারকা রিয়াদ মাহারেজ বলেছেন, ‘আফ্রিকান ফুটবলের গুনগত মান এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ১০ দলের মধ্যে ৯টি দলই পরের রাউন্ডে যাওয়ার অর্থ অবশ্যই বিশেষ কিছু।’
কেপ ভার্ডের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায় ফিফার ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল নিয়ে টুর্ণামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার জন্য রেকর্ড পরিমাণ আয় নিশ্চিত করা।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দ্বীপপুঞ্জের দেশ কেপ ভার্ডে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই তারা শক্তিশালী স্পেনকে রোখে দিয়ে ড্র আদায় করে নেয়।
৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে মুহূর্তেই ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হন। এর ফল হিসেবে বর্তমানে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখে।
আরও পড়ুন: বিএসপিএ ও হুংকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন
এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে কেপ ভার্ডে। ফলে তাদের পেছনে ফেলে এই দুই দলই বিদায় নেয়।
গত বিশ্বকাপের তুলনায় এবার আফ্রিকার জন্য বরাদ্দকৃত দলের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছিল। তিন ম্যাচে ১২ গোল হজম করে বিদায় নেওয়া তিউনিসিয়া ছাড়া বাকি আফ্রিকান দলগুলো প্রমাণ করেছে, বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য তারা।
ডিআর কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে বলেন, "আমি ১৫ বছর ধরে আফ্রিকা মহাদেশে কাজ করছি। আমি দেখছি, ফুটবল ফেডারেশনগুলো আরও ভালোভাবে সংগঠিত হচ্ছে, কোচদের মান উন্নত হচ্ছে এবং খেলোয়াড়রাও আরও ভালো হচ্ছে। আফ্রিকার ফুটবল ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার বিশ্বাস এই অগ্রগতি থামবে না, কারণ এখনও উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি এবং আশা করি, এ বছর অথবা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই কোনো আফ্রিকান দল বিশ্বকাপ জিতবে। আমার কাছে এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।"
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আবারও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড
চার বছর আগে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো মহাদেশের অন্য দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে দীর্ঘ সময় আধিপত্য দেখিয়েছে ‘এ্যাটলাস লায়ন্স’। শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে তারা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।
মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, "বিশ্বকাপ জয়ের এই লক্ষ্যকে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। মরক্কো এখন সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকরা নিজেদের দলের ওপর বিশ্বাস রাখে, আর প্রতিপক্ষরাও আমাদের দলকে সম্মান করে।"
ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপদেশ কুরাসাও ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের গৌরবময় মুহূর্ত তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কুরাসাও, হাইতি ও পানামা- তিন দলই বিদায় নেয়। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বাছাইপর্বে না থাকায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল কনকাকাফ অঞ্চলের এই তিন প্রতিনিধি একটি ম্যাচও জিততে পারেনি, এমনকি কোনো পয়েন্টও অর্জন করতে পারেনি।
অন্যদিকে আফ্রিকার উত্থানের বিপরীতে এশিয়ান দলগুলো অংশগ্রহণকারী সংখ্যা বাড়ার যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেনি। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নয়টি প্রতিনিধির মধ্যে কেবল জাপান ও অস্ট্রেলিয়াই নকআউট পর্বে উঠে যেতে পেরেছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
অভিষেক বিশ্বকাপে জর্ডান ও উজবেকিস্তান কোনো পয়েন্টই অর্জন করতে পারেনি। আর ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের গ্রুপে পড়ায় ইরাক তিন ম্যাচে মোট ১২ গোল হজম করেছে।
গোলে ভরা এই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা গোলের দুর্দান্ত দক্ষতা দেখিয়েছেন।
তবে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার আলোচনা চললেও, এবারের টুর্নামেন্টে এমন অনেক প্রমাণও মিলেছে যে দল বাড়ানোর ফলে প্রতিযোগিতার সামগ্রিক মান কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
গ্রুপপর্বে এবার চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে মোট আটটি ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে, যা আগের তিনটি বিশ্বকাপ মিলেয়ে এমন ম্যাচের সংখ্যার চেয়ে মাত্র একটি কম।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্র থেমে থাকবে না, তবুও এগিয়ে যেতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন