০৯:১৩ এম
ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট এবং কয়লা ডিপো সমস্তকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার এবং ছাতক উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ঢলের পানি প্রবাহিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানি বাড়ার প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সদর উপজেলার উত্তর সুরমা এলাকার বড়বাজার-মঙ্গলকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঢলের পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছবি দিয়ে রাজনৈতিক চরিত্রহননের চেষ্টা! দীর্ঘ ত্যাগের পরও অপপ্রচারের অভিযোগ বিএনপি নেতা রিপন বল্লভের
ঢলের পানিতে চারাগাঁওয়ের শতাধিক কয়লা ডিপো প্লাবিত হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ কয়লা ভেসে গেছে এবং অনেক পাথরের স্তূপ বালুর নিচে চাপা পড়ে গেছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে হাওরবাংলা স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলের জন্য তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-শক্তিয়ারকলা অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, আগামী তিনদিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
আরও পড়ুন: ঈদগাঁওয়ে অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা, গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা সরঞ্জাম জব্দ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন