ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালিয়াকৈরে উজান বিলে অবৈধ জাল ও বাঁধ ধ্বংস


কালিয়াকৈরে উজান বিলে অবৈধ জাল ও বাঁধ ধ্বংস

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে ৫৫টি নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং এক অসাধু জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালিয়াকৈর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শিলা। অভিযানের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, একটি অসাধু চক্র উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রিং জাল ও কারেন্ট জালের সাহায্যে মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নির্বিচারে নিধন করে আসছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫টি রিং জাল ও ২০টি কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বিলের অবৈধ বাঁধ ভেঙে দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি, মাদক ব্যবসায়ীও গ্রেফতার

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, কারেন্ট ও রিং জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। মা মাছ ও পোনা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি তুলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাঙ্গনে শিশুর সুরক্ষায় ইসলামের নৈতিক তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ এম


শিক্ষাঙ্গনে শিশুর সুরক্ষায় ইসলামের নৈতিক তাগিদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো একটি শিশুর মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা বিকাশের পবিত্রতম স্থান। এখানে বাবা-মায়ের পর শিক্ষকেরা শিশুদের পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং আদর্শ মানুষ গড়ার দক্ষ কারিগর। তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদরাসার মতো ধর্মীয় বিদ্যাপীঠে কোমলমতি শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের খবর প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে উঠে আসছে, যা আমাদের বিবেককে চরমভাবে দংশন করছে। যে হাত পরম স্নেহে খাতা-কলম ধরিয়ে শিশুকে আলোর পথ দেখানোর কথা, সেই হাত যখন লালসার বশবর্তী হয়ে অবুঝ শিশুর শরীর ও মনকে ক্ষতবিক্ষত করে, তখন সমাজ ও মানবতার আর কোনো গৌরব অবশিষ্ট থাকে না। ইসলাম প্রতিটি শিশুর পূর্ণ নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ তাগিদ দিয়েছে।

ইসলামে সমাজের সবচেয়ে নিষ্কলুষ, নিষ্পাপ এবং মহান আল্লাহর দেওয়া বিশেষ আমানত বা জান্নাতের ফুল হিসেবে শিশুদের ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুদের প্রতি অন্তহীন স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শনকে বিশ্বনবী (সা.) ঈমানের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ এবং জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র বাণী অনুযায়ী, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান প্রদর্শন করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ ইসলামের এই সুস্পষ্ট মূল নীতি প্রমাণ করে, শিশুদের কোনোভাবেই অবহেলা, নিষ্ঠুরতা বা কোনো প্রকার লাঞ্ছনার পাত্র বানানো যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন। মদিনার রাস্তাঘাটে শিশুদের দেখলে নিজে আগে সালাম দিতেন। আনাস (রা.)-এর মতো শিশু সাহাবিকে দীর্ঘ ১০ বছর পরম মমতায় আগলে রেখেছিলেন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে উম্মতকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছেন। অথচ আজ একশ্রেণির কুচক্রী ও বিপথগামী মানুষ শিক্ষকের পবিত্র লেবাস গায়ে জড়িয়ে এই জান্নাতি ফুল-পাখিদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং ক্ষমার অযোগ্য জঘন্যতম অপরাধ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন একজন শিক্ষক কর্তৃক কোনো শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, তখন তা কেবল একটি দৈহিক অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি একটি শিশুর মনস্তাত্ত্বিক জগৎকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। ইসলাম মানুষের শারীরিক ও মানসিক—উভয় প্রকার সুরক্ষার ব্যাপারে সমান গুরুত্বারোপ করেছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বনী আদম বা মানবজাতিকে সর্বোত্তম সম্মানে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করে বলেছেন, ‘আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।’ যখন কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনো শিশুর এই পবিত্রতা হরণ করে, তখন সে মূলত আল্লাহর দেওয়া সেই সর্বজনীন মানবিক মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হানে। একজন শিশুর মানসিক সুস্থতা ও আত্মসম্মান বজায় রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জরুরি, কারণ ইসলামে মানুষের ইজ্জত বা সম্মান রক্ষা করাকে শরিয়তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বা ‘মাকাসিদ আশ-শারিআহ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে প্রিয় নবী (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান একে অপরের জন্য পবিত্র ও হারাম করা হলো, যা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।’

ইসলামের বিচারব্যবস্থায় ব্যভিচার, ধর্ষণ এবং যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নকে সবচেয়ে গুরুতর, হীন ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয় এটি একটি অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।’ এই নিষেধাজ্ঞা কেবল চূড়ান্ত অপরাধের জন্যই নয়, বরং অপরাধের দিকে ধাবিত করে এমন প্রতিটি কুদৃষ্টি, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, অসৎ উদ্দেশ্যমূলক অঙ্গভঙ্গি এবং আচরণকেও ইসলাম ‘চোখের জিনা’ বা ‘হাতের জিনা’ হিসেবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, যারা নিজেদের রক্ষা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম এবং যারা শিক্ষকদের পরম বিশ্বাসে ভালোবাসে, তাদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক ও পাশবিক আচরণ ইসলামের দৃষ্টিতে ‘খেয়ানত’ বা আমানতের চরম লঙ্ঘন।

শিক্ষকতার আসনটি একটি পবিত্র আমানত। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তারা সফল মুমিন।’ অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার মধ্যে প্রকৃত ঈমান নেই।’

ইসলামে শিক্ষকতাকে অত্যন্ত সম্মানিত এবং একটি গুরুদায়িত্বপূর্ণ ‘রাঈ’ বা অভিভাবকত্ব হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। বুখারি শরিফের সুপরিচিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ সুতরাং, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানের জন্য দায়বদ্ধ নন, বরং তার কাছে পড়তে আসা প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার ওপর অর্পিত দ্বীনি কর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে একজন পরম করুণাময় শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ তিনি সাহাবিদের সঙ্গে পরম মমতা, ধৈর্য ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, কখনো কোনো শিশুর মনে ভয় বা ক্ষোভের জন্ম দেননি। কোনো শিক্ষক যখন সেই মহান আদর্শ ভুলে লালসার বশবর্তী হয়ে শিশুর ক্ষতি করে, তখন সে দুনিয়ার আইনের পাশাপাশি পরকালে আল্লাহর দরবারেও চরম জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবে এবং কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

ভয়াবহ এই সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ইসলামি মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা ও নৈতিক শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নয়, বরং তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা, তাকওয়া ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষালয়গুলোকে এমন একটি নিরাপদ দুর্গে রূপান্তরিত করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু কোনো ধরনের ভয় ও নির্যাতনের শিকার না হয়ে তার মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। সমাজের আলেম-ওলামা, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকেও এই ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা ইসলাম সমর্থন করে না।

আসুন, পবিত্র ইসলামের সুমহান ও ইনসাফভিত্তিক শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে আমরা আমাদের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও ভালোবাসাময় পৃথিবী গড়ে তুলি। কারণ আজকের সুরক্ষিত ও সুস্থ শিশুই আগামী দিনের একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন আদর্শ সমাজের কারিগর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুলার জয়, ট্রাম্পের জন্য লাতিন আমেরিকায় বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ এম


লুলার জয়, ট্রাম্পের জন্য লাতিন আমেরিকায় বড় ধাক্কা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে একটি অসাধারণ রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করেছেন। প্রথম রাউন্ডে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সমর্থিত ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে লুলার ৪৫ শতাংশের বিপরীতে এগিয়ে ছিলেন। এই ফলাফল তার সমর্থকদের মধ্যে পরাজয়ের শঙ্কা তৈরি করে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে লুলা ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চমকপ্রদ জয় লাভ করেন, যেখানে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পান।

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে লুলার এই জয় নির্বাচনের পূর্ববর্তী সব জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণিত করে রাজনীতিতে তার নাটকীয় পুনরুত্থান ঘটিয়েছে, যা খুব কম মানুষই আশা করেছিলেন। লুলার এই জয় কেবল কট্টর ডানপন্থিদের ক্ষমতায় ফিরে আসাকে থামায়নি, বরং পুরো অঞ্চলে ডানপন্থিদের ধারাবাহিক নির্বাচনি জয়ের ধারাকেও ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপমূলক এজেন্ডার ওপরও বড় আঘাত হেনেছে।

প্রথম রাউন্ডে বলসোনারো অপ্রত্যাশিতভাবে লুলাকে পরাজিত করার পর সেই ফলাফল ব্রাজিলসহ পুরো অঞ্চলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। লুলার সরকারের শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে এই পরাজয় ছিল বিস্ময়কর। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটের আগের তিন সপ্তাহে এক অসাধারণ রাজনৈতিক গণসংহতি গড়ে ওঠে, যা লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির ধীরগতির নির্বাচনি প্রচারণাকে ব্রাজিলের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রূপান্তরিত করে।

লুলার সরকারের গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের আশঙ্কা ছিল না। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্রাজিলের অর্থনীতি মোট ৯ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বেকারত্বের হার ২০২২ সালের ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে, যা দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এছাড়া জাইর বলসোনারোর শাসনামলে ব্রাজিল জাতিসংঘের ‘ক্ষুধা মানচিত্রে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, কিন্তু লুলার আমলে দেশটি সেই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। আমাজন অঞ্চলে বন উজাড়ের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা তার পূর্বসূরির আমলের ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত।

তবে লুলার শাসনামলে সবকিছুই যে খুব ভালো ছিল, তা নয়। লাখ লাখ ব্রাজিলীয় ক্রেডিট কার্ডের ঋণের জালে আটকে পড়ে উচ্চ সুদের হারের সঙ্গে লড়াই করছেন। অনলাইন জুয়ার ব্যাপক বিস্তার অনেক পরিবারের জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ফল এসব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সমাজে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর জবাবে লুলা সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেন, যার মধ্যে ছিল ঋণ মওকুফের ব্যাপক উদ্যোগ, অনলাইন বাজি ধরার ওপর বিধিনিষেধ, সামাজিক সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি, জ্বালানি ভর্তুকি প্রদান এবং কর্মসপ্তাহ ছয় দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করা। এই নীতিগুলোর লক্ষ্য ছিল সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অর্জনগুলোর সঙ্গে ভোটারদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক উদ্বেগের যোগসূত্র পুনঃস্থাপন করা।

অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো ভিন্ন এক রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন, যার মধ্যে সরকারি ব্যয় ব্যাপক কমানো, বেসরকারীকরণ, কর হ্রাস এবং অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ছিল। তার প্রস্তাবের মধ্যে আরো ছিল এল সালভাদরের কুখ্যাত কারাগার ব্যবস্থার আদলে পাঁচটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার নির্মাণ এবং ভারী অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া।

ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ফ্লাভিও তাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও তিনি ক্ষমা করার অঙ্গীকার করেন। তার সমর্থকদের কাছে এটি ছিল বিচারিক নিপীড়ন হিসেবে গণ্য হওয়া বিষয়গুলোকে উল্টে দেওয়ার একটি সুযোগ। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, এটি ছিল ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকে বৈধতা দেওয়ার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করার হুমকি।

দ্বিতীয় রাউন্ডে তরুণ ভোটাররা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত হতে শুরু করলে লুলার নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হয়। এই প্রচারণা বলসোনারোর পক্ষে কাজ করা মেটা তথা ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টদের প্রচারণাকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচন কেবল ব্রাজিলের গণতন্ত্র নয়, বরং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়। কেননা লুলার পুরো মেয়াদজুড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে, দেশটির ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছে, জাইর বলসোনারোর বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রকাশ্যে ফ্লাভিওর প্রার্থিতাকে সমর্থন জানিয়েছে।

মে মাসে ট্রাম্প ওভাল অফিসে ফ্লাভিও বলসোনারোকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এর দুদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাজিলের দুটি বৃহত্তম অপরাধী সংগঠনকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন এবং এই পদক্ষেপটির জন্য ফ্লাভিও প্রকাশ্যেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড ব্রাজিলের নির্বাচনি রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরো সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওয়াশিংটনের তথাকথিত ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ’ বিরোধী সম্প্রসারণশীল যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের পথও প্রশস্ত করতে পারে। বিশ্ব দেখেছে, কীভাবে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ করে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাগারে আটকে রেখেছে।

ট্রাম্প যখন লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্যের বলয়ে টেনে আনতে চাইছেন, লুলা তখন তা প্রতিরোধ করতে তার দেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সংগঠিত অপরাধ দমনে যেকোনো সহযোগিতার ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে হবে। লুলা নির্বাচনকে জনগণের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাছাই হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, যেখানে একদিকে ছিল নিজস্ব পথে চলা একটি সার্বভৌম ব্রাজিল, অন্যদিকে ছিল ওয়াশিংটনের ভূরাজনৈতিক এজেন্ডার কাছে নতিস্বীকার করা ব্রাজিল। রোববারের নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে, জনগণ সার্বভৌম ব্রাজিলের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ফিরে আসার পর থেকে হন্ডুরাস, চিলি, বলিভিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে ডানপন্থি শক্তি নির্বাচনে একের পর এক জয় পেয়েছে। তবে লুলার পুনর্নির্বাচন ইঙ্গিত দেয়, ডানপন্থি সেই জোয়ার এখন স্তিমিত হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ব্রাজিলের নির্বাচনের এই ফল লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের নেতৃত্বের শক্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিয়মিত লুলার সমালোচনা করেন এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে মিলেই ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের জনপ্রিয়তায়ও ধস নেমেছে।

অন্যদিকে লুলার বিজয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম। লুলা পরাজিত হলে শেইনবাম লাতিন আমেরিকায় আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন। কেননা এই অঞ্চলের অনেক দেশই মেক্সিকোর উত্তরের প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর বিপরীতে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল এবং বৃহত্তম অর্থনীতির দুটি দেশ ব্রাজিল ও মেক্সিকো অদূর ভবিষ্যতেও বামপন্থি আদর্শের পথেই যে অটল থাকবে, তা লুলার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দিয়েছে।

তবে লুলার বিজয়ে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি প্রবণতা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু তারপরও এ কথা বলা যায়, লুলার বিজয় লাতিন আমেরিকায় উগ্র ডানপন্থি ঢেউকে থামিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাদের আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ মসৃণ হবে না। যদিও ট্রাম্পের হুমকি এখনো রয়ে গেছে, তবে তার প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়টি হয়তো এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে।

লুলার বিজয়ের তাৎপর্য ব্রাজিলের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিজয় গণতন্ত্র, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের সার্বভৌমত্বের প্রবক্তাদের কাছে কট্টর ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাইজবন্ড: সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প ও কেন এটি কিনবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ এম


প্রাইজবন্ড: সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প ও কেন এটি কিনবেন

অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকেই সারাজীবন। কিছু মানুষ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করেন, অন্যরা সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তবে মধ্যবিত্তদের জন্য সঞ্চয়ের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড। মাত্র ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কিনে সর্বোচ্চ পুরস্কার ৬ লাখ টাকা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।

সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে এই বন্ড চালু করেছে। এটি যে কোনো সময় কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।

প্রাইজবন্ড কী?

প্রাইজবন্ড হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় বিনিয়োগ করতে পারেন এবং যেকোনো সময় প্রাইজবন্ড ফেরত নিয়ে আসল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এই প্রকল্প থেকে মুনাফা বা সুদ প্রদান করা হয় না। তবে প্রতি বছর তিন মাস অন্তর অন্তর ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের বিভিন্ন মূল্যমানের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখগুলো হলো ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর। যদি নির্ধারিত তারিখে সরকারি ছুটি থাকে, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

তবে বিক্রিত সকল বন্ড লটারির আওতায় আসে না। যে তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হবে, সেই তারিখ থেকে ২ মাস আগে যে সমস্ত নতুন বন্ড বিক্রি হবে, সেগুলো ড্রয়ের আওতায় আসবে। অর্থাৎ, বন্ডের বিক্রির তারিখ থেকে ন্যূনতম ২ মাস অতিক্রমের পর উক্ত বন্ড ড্র-এর আওতায় আসবে।

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকার কর্তৃক নিয়োজিত 'ড্র' কমিটি এই অনুষ্ঠানের পরিচালনা করে। একক সাধারণ পদ্ধতিতে 'ড্র' পরিচালিত হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর। বাজারে প্রচলিত প্রাইজবন্ড সিরিজগুলো এই 'ড্র'-এর আওতাভুক্ত।

প্রাইজবন্ড কেন প্রচলন করা হয়েছে?

বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই স্কীমটি চালু করেছে। এই প্রকল্পটি সকল শ্রেণির মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ আহরণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেকটাই সহজ হয়েছে। প্রাইজবন্ড বিক্রির মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণ করে।

বর্তমানে বাজারে কত টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড উপলব্ধ? বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি প্রাইজবন্ড প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথমটি ১৯৭৪ সালে ১০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড, যা ১৯৯৫ সালে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়টি ১৯৭৪ সালে ৫০ টাকা মূল্যমানের আরেকটি প্রাইজবন্ড চালু হয়েছিল, সেটিও ১৯৯৫ সালে বাতিল হয়।

বর্তমানে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড বাজারে চালু রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ২ জুলাই থেকে এই বন্ড বাজারে প্রচলন শুরু হয়।

কেন কিনবেন প্রাইজ বন্ড?

সারাজীবন কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়েছেন, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। যেহেতু যে কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকে, তাই প্রাইজবন্ড একটি নিরাপদ বিকল্প। খুব ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে অর্থনীতিতে লাভজনক বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

মাত্র ১০০ টাকায় অন্য কোনোভাবে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করা কঠিন। অন্য বিনিয়োগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মূলধন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তবে প্রাইজবন্ড ভাঙিয়ে যে কোনো সময় নগদ অর্থ তুলে নেওয়া যায়। এটি সহজে হস্তান্তরযোগ্য। ব্যাংক বা অন্য কোথাও সঞ্চয় জমা রাখলে তা সহজে হস্তান্তরযোগ্য নয়। কিন্তু আপনার অধিকারে থাকা প্রাইজবন্ড যে কোনো সময় যে কাউকে হস্তান্তর করা সম্ভব। ড্র এর সময় বন্ড যার হাতে থাকবে, সেই পুরস্কার লাভ করবে।

কীভাবে কিনবেন?

প্রাইজবন্ড কেনার জন্য কোনো আবেদন করতে হয় না। যেকোনো ইস্যু অফিসে গিয়ে নগদ অর্থের বিনিময়ে প্রাইজবন্ড ক্রয় করা এবং ভাঙানো যায়। বর্তমানে দেশে চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাইজবন্ড কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।

১) বাংলাদেশ ব্যাংক

২) শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত সকল তফসিলি ব্যাংক

৩) জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনস্থ সব সঞ্চয় ব্যুরো অফিস

৪) ডাকঘর

প্রাইজবন্ড 'ড্র' পদ্ধতি কেমন?

বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড স্কিমের অধীনে প্রাইজবন্ড বিক্রয়, 'ড্র' অনুষ্ঠান এবং পুরস্কারের টাকা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির চেয়ারম্যান (বিভাগীয় কমিশনার) কর্তৃক নির্দেশিত পূর্ব নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। চেয়ারম্যান 'ড্র' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করেন।

'ড্র' অনুষ্ঠানটি বিটিভি বা অন্য কোনো চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় না, তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রচুর জনসাধারণ, মিডিয়া প্রতিনিধি, সংবাদ মাধ্যম উপস্থিত থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে আসছে, কখনো কোনো বিরূপ পরিবেশ তৈরি হয়নি।

চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত গেজেটেড কর্মকর্তারা অর্থাৎ ড্রয়িং অফিসার 'ড্র' পদ্ধতিটি পাঠ, ড্রাম ঘুরানো, গুটি উত্তোলন, ড্রামের সঙ্গে রক্ষিত ট্রে-তে গুটিগুলো স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সুচারুভাবে পালন করেন এবং সদস্যগণ অন্যান্য কাজের সাথে পুরস্কার বিজয়ী নম্বর রেকর্ড করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।

প্রাইজবন্ড 'ড্র' অনুষ্ঠানের প্রায় দেড় মাস পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনার আলোকে মতিঝিল অফিসের প্রাইজবন্ড শাখার উপ-ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে 'ড্র' অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির সভাপতি মহোদয় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে প্রাইজবন্ড নীতিমালায় বর্ণিত কার্যাবলী মোতাবেক যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।

প্রাইজবন্ডের ড্রয়ের ফলাফল জানার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।

সহজেই প্রাইজবন্ড ড্রয়ের ফলাফল জানার পদ্ধতি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটের সার্চ বক্সে এক বা একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করা। একটি নম্বরের জন্য শুধুমাত্র নম্বরটি টাইপ (সিরিজ নয়) করলেই ফলাফল জানা যাবে। একাধিক প্রাইজবন্ড থাকলে এবং তা যদি ক্রমানুসারে হয়, তাহলে প্রথম ও শেষ নম্বরের মাঝে হাইফেন (-) টাইপ করে সমস্ত নম্বর অনুসন্ধান করা যাবে। যদি একাধিক প্রাইজবন্ড থাকে এবং তা যদি ক্রমানুসারে না হয়, তাহলে কমা (,) দ্বারা আলাদা করে সমস্ত নম্বরগুলো টাইপ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে।

এছাড়া প্রাইজবন্ডের লটারির ফলাফল জানার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ চালু করেছে প্রাইজ বন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার (পিবিআরআইএস)। এর ওয়েব এড্রেস হলো www.irdbd.online।

এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে ২টি পদ্ধতিতে ফলাফল অনুসন্ধান করা যাবে। সার্চ বক্সে সরাসরি নম্বর লিখে এবং নম্বর আপলোড করে অনুসন্ধান করা যাবে।

প্রথম পদ্ধতিতে সার্চ বক্সে প্রাইজবন্ডের নম্বরটি (সিরিজ ব্যতীত) বাংলায় অথবা ইংরেজিতে অনুসন্ধান করা যাবে। একসঙ্গে একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করলে নম্বরগুলোকে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। ধারাবাহিক নম্বর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ সংখ্যার মধ্যে হাইফেন (-) ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট এক্সেল সিটের কলাম এ প্রাইজবন্ডের নম্বরগুলো (সিরিজ ব্যতীত) ইংরেজিতে লিখে শেষ করতে হবে। তারপর এক্সেল ফাইলটি সরাসরি সফটওয়্যারে আপলোড করতে হবে। অনুসন্ধানের তারিখ শুরু করে পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে প্রকাশিত সব ফলাফলের বিপরীতে কোনো মিল পেলে ফলাফলের কপি দেখাবে।

এই সফটওয়্যার থেকে প্রাইজবন্ড ক্রেতারা পুরস্কারের টাকা দাবি ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই সঙ্গে প্রাইজবন্ডের ড্র বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন।

ক্রেতারা এ সফটওয়্যারে বিনামূল্যে ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন করতে পারবেন। এতে সাবস্ক্রিপশনপ্রাপ্ত নাগরিকরা প্রতি ৩ মাস পরপর প্রকাশিত ফলাফল সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেইলে অবহিত হতে পারবেন।

পুরস্কার

প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে ৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী এক লাখ টাকা পান এবং চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার টাকা পান। পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের সেই সংখ্যার বন্ড একই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

পুরস্কার দাবির সময়সীমা দুই বছর। সাধারণত পুরস্কার দাবির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ পাওয়া যায়। মূলত প্রাপকের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পুরস্কারের অর্থ জমা হয়। তবে আয়কর আইন ২০২৩ এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল, সাগরে নতুন লঘুচাপ; ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ এম


ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল, সাগরে নতুন লঘুচাপ; ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হতে না হতেই দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী দুই দিন ধরে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে, যা আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। এটি প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপ এবং পরে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় সারা তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিন শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এই সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%