বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০১ পি.এম
দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনে চোট পাওয়ার পরও ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন লিটন দাস। তবে টাইগাররা ফিল্ডিংয়ে নামার সময় গ্লাভস হাতে তাকে আর দেখা যায়নি। বদলি উইকেটকিপার হিসেবে স্কোয়াডে থাকা জাকের আলী অনিক মাঠে নেমেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, লিটনের চোট কি গুরুতর?
লিটন দাস বর্তমানে উইকেটের পেছনে বিশ্বসেরাদের মধ্যে একজন। ব্যাটিং ধ্বসের পর ফিল্ডিংয়ের সময় দলের উজ্জীবিত করতে লিটনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই টেস্টের বাকি অংশে তার খেলা নিয়ে এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চোটের কারণে উইকেটকিপিং করছেন না লিটন। তার বদলে জাকের আলী উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়জেদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় পাওয়া আঘাতে লিটনের কনুই থেঁতলে গেছে। ফলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানে অলআউট হয়েছে। আগের দিন ৩ উইকেটে ২১৩ রান তোলার পর আজ এক সেশনে ৫৯ রান তুলতেই তারা হারিয়েছে বাকি ৭ উইকেট। সেঞ্চুরি হাঁকানো সাদমান ইসলাম (১০৫) ফিরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের ইনিংসে ধ্বস নামে। লিটন এক প্রান্তে টিকে থাকলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ।
সাদমানের বিদায়ের পর ক্রিজে এসেছিলেন আগের দিন ৪২ রানে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু আজ আর কোনো রান যোগ করার আগেই তিনি বিদায় নিয়েছেন। লিটন শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
জোমেল ওয়ারিক্যান একাই ৫ উইকেট শিকার করেছেন। ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন শামর জোসেফ ও বিশপ। বাকি উইকেটটি যায় জেডন সিলসের দখলে।
লাঞ্চের পর ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই প্রতিবেদন লেখার সময় ১ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তুলেছে। তারা এখনও ২২৭ রানে পিছিয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির বিচার বিভাগের (ডিওজে) প্রকাশিত নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ এবং বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার মধ্যে অসংগতি লক্ষ্য করেছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইন ফাইলসের অন্তত তিনটি নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। একটি নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দপ্তরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত শ্রেণিবদ্ধ উপকরণ পাঠানো হয়েছিল।
তবে ব্ল্যাঞ্চ পূর্বে দাবি করেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো নথি আটকে রাখা বা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়নি। নতুন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ঠিক কী তথ্য শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রকাশিত নথির বাইরে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দাবি, এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৬০ লাখ পৃষ্ঠার নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো পর্যালোচনার পর তিন লাখ নয়, ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি, আইনজীবী-মক্কেলের গোপনীয়তা এবং মামলার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাকি নথি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
তবে সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আর্থিক নথি ও ইমেইলের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে। এপস্টেইনের ব্যাংক হিসাবের প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি চেকের ছবির মধ্যে ৬৬টি ছবির অনুপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিছু নথির পুরোনো নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত পাতার নম্বরের অসংগতিও শনাক্ত হয়েছে।
সাবেক মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর বারবারা ম্যাককুয়েড সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, আর্থিক নথি বাদ দেওয়া অনুমোদিত কোনো শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইমেইলের নম্বরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার সম্ভাব্য ঘাটতি শনাক্ত করা গেছে। তবে এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে, নাকি একই ইমেইলের পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া কিংবা পর্যালোচনার সময় ভুলের কারণে অনুপস্থিত—তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে, আরও নথি প্রকাশ এবং তথ্য গোপন বা বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার দাবিতে স্বাধীন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার পক্ষে আদালতের কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিভাগটি।
বিচার বিভাগ এর আগে এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছে। তবে সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসা নতুন তথ্যের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
নথির অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ঠিক কী তথ্য বাদ পড়েছে বা সেগুলো কেন গোপন রাখা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, “আপনারা জনগণের সেবক হন। ব্রিটিশ আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আপনারা অপরাধীর মনে ভয় আর নিরপরাধীর মনে প্রশান্তি জাগাবেন। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।”
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম সার্জেন্ট ও ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জনের জন্য তাগিদ দেন। তিনি পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একটি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থার স্বাদ দেশবাসীকে উপহার দিতে হবে। বর্তমান সময়ে আমরা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে।
নবীন কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাই হবে আপনাদের কর্মের মূল ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক শুধু একজনকেই শেষ করে না বরং পুরো সমাজ ও দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই কোনো অবস্থাতেই মাদকে ছাড় দেওয়া যাবে না; কঠোর হাতে মাদক দমন করতে হবে।
২৭তম সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন (সবাই পুরুষ) এবং ৪৩তম এসআই ব্যাচে ১৬২ জন (৫ জন নারী ও ১৫৭ জন পুরুষ) প্রশিক্ষণার্থী কুচকাওয়াজে অংশ নেন। এর আগে প্রধান অতিথি অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন শেষে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজন কর্মকর্তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসানের (বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর অবশেষে ৮৪ জন সার্জেন্ট এবং ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ (৫ জন নারী ও ১৫৭ জন পুরুষ) সর্বমোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে একটি সম্মেলন কেন্দ্রে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী তিন দিনব্যাপী এ মেলা উদ্বোধন করেন।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’ যা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মেলাটি পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
এবারের মেলায় ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল এবং ২২০টির বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা ও ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী মন্তব্য করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিটিটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। পর্যটন খাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ মেলা দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।
মেলাটির আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
মেলা শুক্রবার ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদীতে উৎপাদন অপেক্ষায় থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থার (রসাটম) নিযুক্ত বাংলাদেশি জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ইউনিট-১-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রারম্ভিক লোডিং সম্পন্ন করে রিঅ্যাক্টরটি এ মাসেই তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে পৌঁছাবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-২-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের জন্য রসাটম ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নাভআসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান সম্প্রতি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এটি দ্বিতীয় ইউনিটে প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানী সরবরাহ শুরু করেছে।
এর আগে, ইউনিট-১ এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানী সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ইউনিটের রিফুয়েলিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, রূপপুর প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানো জ্বালানী কন্টেইনারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সকল জ্বালানী অ্যাসেম্বলিগুলোকে বাধ্যতামূলক ভিজুয়াল এবং ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ, পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে বাংলাদেশ, জেনারেল কনট্রাক্টর এবং জ্বালানী প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এই পরিদর্শন পরিচালিত হবে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ এবং পরবর্তী পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক অপারেশনের আগে, ইউনিটটিকে পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর এনপিপিতে রাশিয়ার নকশাকৃত দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এই প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার এবং প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ