০৬:৩৩ পি.এম
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আগামী ২৬ আগস্ট উদযাপিত হবে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. ইমতিয়াজ হোসেন এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। এই দিন দেশের সমস্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
এই উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ককে জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। একসাথে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ ক্ষেত্রের অধীনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো আয়োজনের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন যুবকদের জন্য করবে। এছাড়া স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলা আয়োজন করা হবে।
এই দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে প্রস্তুত হবে।
আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: শামা ওবায়েদ
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিস এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম এবং ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।
এই উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২
এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন