১২:২২ পি.এম
ভারী বর্ষার কারণে মুম্বাই, পুনে এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে, পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং বৃষ্টিজনিত ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, পুনে, থানে, রায়গড় এবং পালঘরের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং একটানা ভারি বর্ষণের সতর্কতা দিয়েছে।
সোমবার ভোরে কারজাত এবং লোনাভালার মধ্যবর্তী ভোরঘাট অংশে একাধিক ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে রেল করিডর মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রেললাইনের ওপর বড় বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি রেললাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেকান কুইন, ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস এবং সিংহগড় এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল বা অন্য পথে পাঠাতে বাধ্য হয়।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির মধ্যেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাদল ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিষ্কার ও চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুম্বাই ও পুনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের টানেল-২-এর কাছে বড় ধরনের একটি ভূমিধসে মুম্বাইমুখী সড়ক ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়। একই সময়ে বন্যার কারণে মাভাল ও তামহিনি ঘাট হয়ে যাওয়া বিকল্প সড়কগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মুম্বাই মহানগর অঞ্চলে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানখুর্দে তিনতলা একটি চাওল ভবন ধসে ৬ জন নিহত হন। কুরলায় রাস্তার পাশের একটি দোকানের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। এ ছাড়া চেম্বুরে একটি স্কুলবাসের ওপর গাছ পড়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। সাকি নাকায় বন্যার পানিতে ঢেকে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে খারঘরের নিষিদ্ধ পান্ডাভকাড়া জলপ্রপাতে ডুবে দুই তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের উপশহরীয় রেল চলাচল চালু থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের ট্রেনগুলো ৬ থেকে ৮ মিনিট এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিলম্বে চলাচল করছে।
পরিস্থিতির কারণে মুম্বাই, পুনে, থানে ও নবি মুম্বাইয়ের স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ডাব্বাওয়ালারাও দিনের জন্য তাদের সেবা স্থগিত করেছে। এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন