০২:২১ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও হায়দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পৌরসভা অংশের নর্দমা পর্যন্ত দুই কিলোমিটারসহ তিনটি রাস্তার সংস্কার কাজের কার্যাদেশ ১০ মাস পার হতে চললেও ঢাকার এক ঠিকাদার প্রকল্পের কাজ মাত্র ৪ শতাংশ সম্পন্ন করেছেন। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। স্থানীয়দের মধ্যে এই সড়কের সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এডিবি, এএফডি ও সরকারি অর্থায়নে হায়দরগঞ্জ সড়কে ১৯৬০ মিটার, উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরের চারদিকে ৩০০ মিটার, টিসি সড়কের প্রস্তাবিত পৌর শিশুপার্কের ৮৬০ মিটার ও মেস্তরী বাড়ীর ১০০ মিটার সড়কসহ মোট ৪টি সড়কে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পৌরসভা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল স্থানীয় এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া কাজটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু ২০২৭ সালের ৪ এপ্রিলের মধ্যে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ১০ মাস পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রথম চুক্তির মেয়াদে মাত্র ৫ মাস বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের গতি অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্ভোগের কারণে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় যাতায়াতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজের ধীরগতির কারণে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা নানা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খানাখন্দ, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী যানবাহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
নতুনবাজার এলাকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন, মিন্টু ও জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এক বছরের সময়সীমার ১০ মাস ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে। কাজের মাত্র ৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। কাজের এই ধীরগতির কারণে ৫-৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করলে তিন বছরে কাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাসই দেন, কিন্তু দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কারণ নিয়মিত তদারকি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নেই এই পৌরসভায়।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক দুলাল দে মোবাইল ফোনে জানান, বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থ সমস্যার কারণে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে। হায়দরগঞ্জ সড়কে আধা কিলোমিটার সড়কে ড্রেনের কাজ হয়েছে, শিশুপার্কের রাস্তার কাজে বালু ফেলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরপাড়ে কাজ শুরু হয়নি এবং মেস্তরী বাড়ীর রাস্তা কিছুটা করা হয়েছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরে কাজ শুরু করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
রায়পুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহামুদুন্নবি বলেন, প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিরতির কারণে তদারকির পরও নির্ধারিত সময়ে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
আরও পড়ুন: মধুপুরে টনসিল অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন