মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০০ পি.এম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, নাইট ভিশন ডিভাইস, ড্রোন, রাডার এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সংমিশ্রণ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা প্রদান করেছে, যা প্রচলিত টহল ও জনবলনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি কাজ করছে।
বিজিবি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অনুপ্রবেশের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে অবহিত করার ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সীমান্তের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন বিবেচনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রচলিত টহল ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সমন্বয় ঘটিয়ে সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ জানান, সিসিটিভি ও দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ ক্যামেরার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সম্ভব। থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি তাপের পার্থক্য শনাক্ত করে অন্ধকারে নজরদারিতে সহায়তা করে। নাইট ভিশন ডিভাইসের মাধ্যমে রাতের বেলায় পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়।
তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার সীমান্তে সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ড্রোন প্রযুক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা আকাশপথে দুর্গম এলাকা, নদী ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। রাডার ও অন্যান্য সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গতিবিধি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
আধুনিক বেতার ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সমন্বয় নিশ্চিত করা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তি কখনোই সীমান্তরক্ষীদের বিকল্প নয়; বরং এটি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত সদস্যদের উপস্থিতি, স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্থাপন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। তথ্যের নিরাপত্তা, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং প্রযোজ্য আইন ও মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করাও জরুরি।
ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭১ কিলোমিটার।
দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় এই সীমান্তের বিভিন্ন অংশে নদী, পাহাড়, বনাঞ্চল, চর ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি থাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা বিজিবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) স্থাপন, বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আধুনিক নজরদারি সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্ত অপরাধ দমনে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের টহলের সমন্বিত ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল পরিকল্পনা করা হলে সীমিত জনবল ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিজিবির নিয়মিত অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দের ঘটনাগুলো গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের টহল কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় এ বাহিনীর আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বিজিবি। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন। তিনি নির্মাতা হংসল মেহতার পরিচালনায় একটি নাম এখনও চূড়ান্ত না হওয়া ওয়েব সিরিজের শুটিং শুরু করেছেন। এই সিরিজে সানি কৌশল ও বিশাল জেঠওয়া অভিনয় করছেন। সিরিজটি মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে। তবে, সিরিজের নাম, বিপাশার চরিত্র এবং মুক্তির তারিখ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, সিরিজটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন কাশ্যপ কাপুর ও রাঘব রাজ কাক্কার। প্রযোজনা করছেন প্রভলীন সান্ধু। এটি তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলমাইটি মোশন পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে।
ছোট শহরের অপরাধ ঘিরে কাহিনি
নতুন সিরিজটির কাহিনী একটি ছোট শহরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যা ধীরে ধীরে মহাদেশের হেরোইন ব্যবসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। অপরাধজগতের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
সিরিজে সানি কৌশল একজন সৎ ও আপসহীন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করছেন। দায়িত্ব পালনের সময় তাকে নিজের বিভাগের ভেতরে ও বাইরে থাকা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মোকাবেলা করতে হয়। নিজের সততা রক্ষা করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
তবে বিপাশা বসু এবং বিশাল জেঠওয়ার চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানানো হয়নি। তাদের চরিত্র কাহিনীর কোন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সে সম্পর্কে নির্মাতারা কোনো মন্তব্য করেননি।
সংসারে মনোযোগী ছিলেন বিপাশা
বিয়ের পর থেকে বিপাশা বসুকে অভিনয়ে তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি বেশিরভাগ সময় পরিবারকে সময় দিয়েছেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে এই দম্পতির ঘরে কন্যাসন্তান দেবীর জন্ম হয়।
এর আগে ২০২০ সালে করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে ‘ডেঞ্জারাস’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছিলেন বিপাশা। ক্রাইম থ্রিলারধর্মী সিরিজটি ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ভৌতিক সিনেমা ‘অ্যালোন’-এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ছবিতে সঞ্জনা ও অঞ্জনা নামের যমজ দুই বোনের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। বিপাশার বিপরীতে ছিলেন করণ সিং গ্রোভার।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন সিরিজের শুটিংয়ে অংশ নেওয়া তার অভিনয়জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। তবে, এই কাজে তাকে ঠিক কী ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে, তা জানার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রণোদনা প্রদান করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তা যথাযথভাবে পৌঁছায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই মন্তব্য করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয়; আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।’
এছাড়া, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান কায়সার কামাল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশ গঠনে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মো. জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করার সময় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলা মো. রকিবুল আক্তার পিপিএম সেবা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৬ অক্টোবর বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটের দিকে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে অবস্থানকালে মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। ফোনে তিনি এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এবং সুযোগ পেলে তাকে খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মিলটন হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় ৬ অক্টোবর মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ অক্টোবর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পিবিআই।
জুয়েল আহমেদের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকায়। তার বাবার নাম সাদা মিয়া এবং মায়ের নাম জমিলা বেগম। তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করছিলেন। এই সময় তিনি অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেন।
ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। টাকা না দিলে মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভয়ে বাদী প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা দেন। পরে আরও দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই পিবিআইয়ের অভিযানে গ্রেফতার হন জুয়েল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতীতের ওই অগ্নিকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়েই চাঁদা দাবির সময় মার্কেটে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে মার্কেটের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, অনলাইন গ্যাম্বলিং, ক্যাসিনো ও প্রচলিত জুয়া থেকে মানুষকে দূরে রাখতে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী অঞ্চলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের কারণে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আব্দুল সালাম (৬০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করতে তার স্বজনরা বাধার সম্মুখীন হন। পরে স্থানীয় জনগণ রাস্তার ওপর অবস্থিত একটি ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বিলপালিমা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আব্দুল সালাম ওই গ্রামের একাব্বর আলীর পুত্র।
স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ঘাটাইল উপজেলায় অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল সালাম মারা যান। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর রাতে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ থাকায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে সোমবার সকালে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিলপালিমা গ্রামের মাতবর মোজাফফর হোসেন জানান, কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার জন্য রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দেননি।
মৃত আব্দুল সালামের ভাই, পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় স্থানীয় লোকজন একত্রিত হন। এরপর তারা রাস্তার ওপর অবস্থিত ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার ভাইয়ের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বিলপালিমা বর্তা বিলের চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী একাব্বর আলীর সঙ্গে বিরোধের কারণে প্রায় দুই বছর ধরে মোতাহের মাস্টার, কবির, মজিদ ও কাশেমের লোকজন রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন।
বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহজালাল বলেন, প্রতিপক্ষ রাস্তার ওপর ঘর নির্মাণ করেছিল। ফলে মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরটি ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করেন। এরপর মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।
কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা নিয়ে বিরোধের কথা তিনি শুনেছেন। এ বিরোধের কারণে ক্ষুব্ধ লোকজন ঘর ভেঙে মরদেহ দাফন করেছেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ