প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মো. জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করার সময় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিবিআই গাজীপুর জেলা মো. রকিবুল আক্তার পিপিএম সেবা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৬ অক্টোবর বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটের দিকে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে অবস্থানকালে মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। ফোনে তিনি এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এবং সুযোগ পেলে তাকে খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মিলটন হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় ৬ অক্টোবর মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ অক্টোবর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পিবিআই।
জুয়েল আহমেদের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল এলাকায়। তার বাবার নাম সাদা মিয়া এবং মায়ের নাম জমিলা বেগম। তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করছিলেন। এই সময় তিনি অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ করেন।
ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। টাকা না দিলে মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভয়ে বাদী প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা দেন। পরে আরও দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই পিবিআইয়ের অভিযানে গ্রেফতার হন জুয়েল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতীতের ওই অগ্নিকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়েই চাঁদা দাবির সময় মার্কেটে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে মার্কেটের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, অনলাইন গ্যাম্বলিং, ক্যাসিনো ও প্রচলিত জুয়া থেকে মানুষকে দূরে রাখতে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন