০৩:০০ পি.এম
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা আর সংসদ অভিমুখে নতুন করে কোনো পদযাত্রা করবে না।
মঙ্গলবার দলের প্রধান অভিজিৎ দিপক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হয়েছেন, এই কারণে দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো এখন আর কোনো আন্দোলনকারী, বিশেষ করে তরুণদের, ঝুঁকির মুখে না ফেলা। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
মিছিল আটকে দিতে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক দাবি করেন, আহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আরো বেশি। অভিজিৎ দিপকের ভাষ্য, ১৫০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংঘর্ষের এক দিন পর সমর্থকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান অভিজিৎ দিপক। বিশেষ করে আহত নারী সমর্থকদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে আরো ভালো প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করেছেন এবং তাদের রক্ষা করতে তিনি আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতেন।
অভিজিৎ দিপক আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে সরকার আরো কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। তার দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদমুখী পদযাত্রা বন্ধ হলেও আন্দোলন থামবে না। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে তা রাজপথের বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়। সোমবার দিল্লি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ রাজধানীতে জড়ো হয়ে সংসদের দিকে মিছিল করেন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সহিংস ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালেই সিজেপির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল—সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
এদিকে সংসদমুখী মিছিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে 'সবচেয়ে বড় পাপ' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে। তাই এখন পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত না করাই ভালো। এদিকে সংঘর্ষে আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাও আহতদের সঙ্গে দেখা করেন।
সোমবারের সংঘর্ষের পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যদিও সংসদমুখী মিছিল থেকে সরে এসেছে সিজেপি, তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন